আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিম্নস্তরে নেমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর দাবি, ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে, যা এখন স্বাস্থ্য খাতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুরের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসকের অবহেলায় মারা যাওয়া কনিকা রানী মন্ডলের (৩৫) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছরের স্বাস্থ্যসেবায় নিম্নস্তরে নামিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। সেই অব্যবস্থাপনা দুই-এক মাসে ঠিক করা সম্ভব নয়।’
তিনি আেরো বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ১৭ বছরের দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতালগুলো তৈরি করেছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের গড়ে ওঠা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।’
কনিকা রানী মন্ডলের মৃত্যুর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনায় সরকার ব্যথিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনায় রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনসহ উপজেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০ শয্যার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
কনিকার মৃত্যু যেভাবে: গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কনিকা রানী মন্ডল ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে তাঁকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা কনিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা রানী মন্ডলের মৃত্যু হয়।
সানা/আপ্র/২২/৮/২০২৬