অভিলাষ মাহমুদ===
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পাতা উল্টালে যে কজন প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব নিজেদের মেধা, মনন, দূরদর্শিতা ও কর্মের শক্তিতে ধ্রুবতারার মতো চিরভাস্বর হয়ে আছেন, আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁদের অগ্রগণ্য। তিনি একাধারে কালজয়ী নাট্যকার, প্রথাবিরোধী নাট্যনির্দেশক, মঞ্চ ও রুপালি পর্দার সফল অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। দেশবিভাগের পর এবং বিশেষ করে স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলনকে পেশাদারিত্ব, শৈল্পিক গভীরতা, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এবং সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান তুলনাহীন। ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় এই মহান পুরুষ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার এই মহীরুহের জীবন, শিল্পভাবনা, রচনাবলি ও সার্বিক অবদানের প্রতি রইল গভীর অনুরাগের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। জামালপুরের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে। পরিবার ও স্থানীয় মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবে শৈশব থেকেই নাটকের রূপ, রস, গন্ধ ও মঞ্চের আলো-ছায়ার খেলা তাঁর রক্তে মিশে গিয়েছিল। তিনি জামালপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ইতিহাস অধ্যয়নের ফলে তৎকালীন বিশ্বরাজনীতি, সমাজবিজ্ঞানের রূপান্তর এবং মানুষের শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাসকে গভীরভাবে অনুধাবন করার দৃষ্টি তাঁর ভেতর তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তার আবহাওয়া, কার্জন হল কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং তৎকালীন প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন তাঁর ভেতরের নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতাকে পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। ষাটের দশকে যখন পুরো পূর্ব বাংলা স্বাধিকার আন্দোলন ও ভাষার দাবিতে উত্তাল, তখন তিনি নাটক ও সাহিত্যকে বেছে নেন শোষণ, স্বৈরাচার ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ গড়ে তোলার প্রধানতম রাজনৈতিক ও শৈল্পিক অস্ত্র হিসেবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ দেশের নাট্যাঙ্গনে এক অভূতপূর্ব জাগরণ ঘটে। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে গঠিত হয় বিখ্যাত নাট্যদল ‘থিয়েটার’। আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন এই নাট্যসংগঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি ও মূল চালিকাশক্তি। তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা মিলে বাংলাদেশের অপেশাদার নাট্যাঙ্গনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করান। নাট্যকার ও নির্দেশক হিসেবে আবদুল্লাহ আল মামুন মঞ্চে এমন এক নতুন ধারার জন্ম দেন, যেখানে বিশ্বনাট্যের আধুনিক রূপকল্পের সাথে বাঙালির হাজার বছরের লোকায়ত ঐতিহ্য ও সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতার এক চমৎকার যুগলবন্দি ঘটে। মঞ্চ সজ্জা, আলোর ব্যবহার, আবহসংগীত এবং অভিনেতাদের অঙ্গভঙ্গিতে তিনি ইউরোপীয় রিয়েলিস্টিক থিয়েটারের প্রয়োগ ঘটিয়েও নাটকের ভাববস্তুকে সম্পূর্ণ বাংলা মাটির সাথে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।
আবদুল্লাহ আল মামুনের রচিত ও নির্দেশিত নাটকগুলো কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ ছিল না, তা ছিল সেকালের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির তীব্র মানসিক টানাপোড়েন, নৈতিক অবক্ষয়, ভণ্ডামি ও সামাজিক বৈষম্যের জীবন্ত দলিল। তাঁর বিখ্যাত নাটকের মধ্যে ‘সুপুরুষ’ নাটকে দেখা যায় মধ্যবিত্ত সমাজের তথাকথিত সুশীল মুখোশের আড়ালের ভণ্ডামি, যৌন অবদমন ও ভেতরের অন্ধকার রূপের নির্মোহ বিশ্লেষণ। ‘সুবচন নির্বাসনে’ নাটকে ফুটে উঠেছে স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক হতাশার মাঝে যুবসমাজের নৈতিক মূল্যবোধের সংকট ও প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বৈপরীত্য। ‘এখন দুঃসময়’ নাটকটি স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বিপথগামী তরুণ প্রজন্মের আত্মিক অবক্ষয়ের বাস্তব রূপায়ণ। চারজন নারীর স্বতন্ত্র ব্যাকগ্রাউন্ড কিন্তু সামাজিকভাবে একই শোষণের সূত্রে বাঁধা ট্র্যাজেডির আখ্যান নিয়ে তৈরি তাঁর ‘কোকিলারা’ নাটকটি বাংলা নাট্য ইতিহাসের এক অনন্য সংযোজন। এ ছাড়া ক্ষমতার রাজনীতি, তোষামোদপ্রিয়তা এবং মেকি দেশপ্রেমের বিরুদ্ধে এক তীক্ষ্ন রূপক হিসেবে এসেছে ‘সেনাপতি’ নাটকটি। একজন নারীর নিঃসঙ্গ সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং সামাজিক বাধার মুখে দাঁড়িয়ে আত্মমর্যাদা রক্ষার আখ্যান ফুটে উঠেছে ‘মেহেরজান আরেকবার’ নাটকে। আর ‘শপথ’ নাটকের মূল সুর ছিল মানবতাবাদী চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক আদর্শ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দীপ্ত অঙ্গীকার। এছাড়াও তাঁর রচিত ‘মেহেরজান আবার তোকে’, ‘স্পর্ধা’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’ এবং ‘তোমাদের হাত কোথায়’ নাটকগুলো বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে একেকটি মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন কেবল মঞ্চনাটকের চার দেওয়ালেই নিজের মেধাকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন যাত্রার শুরুর পর ১৯৬৫ সালে তিনি বিটিভিতে প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। বিটিভির প্রারম্ভিক পর্বে টেলিভিশন নাটককে একটি শিল্পসম্মত ও সুনির্দিষ্ট ফর্মে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল পথপ্রদর্শকের। তিনি বিটিভির নির্বাহী ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করার সময় শত শত একক ও ধারাবাহিক নাটক প্রযোজনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বিটিভির জন্য তৈরি করেন একাধিক ধ্রুপদী নাটক, যা সে সময় পুরো বাংলাভাষী দর্শককে টিভির সামনে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসিয়ে রাখত। ড্রামাটিক টাইমিং, ক্লোজ-আপ শটের সুষম ব্যবহার এবং শক্তিশালী সংলাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি ড্রপ-সিন ও ক্যামেরার ফ্রেমকে একই সুতোয় বেঁধেছিলেন। বিটিভির নিজস্ব ঐতিহ্য তৈরিতে তাঁর এই অবদান আধুনিক তথ্যসংমাধ্যমের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
চলচ্চিত্র জগতেও আবদুল্লাহ আল মামুন রেখে গেছেন তাঁর সুগভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ। সস্তা বাণিজ্যিক ধারার ফর্মুলাভিত্তিক সিনেমার ভিড়ে দাঁড়িয়ে তিনি এমন কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা একাধারে শৈল্পিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ এবং সাধারণ দর্শকের কাছেও বিপুলভাবে সমাদৃত। ১৯৭৮ সালে খ্যাতনামা সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত তাঁর ‘সারেং বউ’ চলচ্চিত্রটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অমূল্য রত্ন। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক কুসংস্কার এবং সব প্রতিকূলতাকে জয় করে নবিতুন নামের একজন সাধারণ নারীর আত্মমর্যাদা ও সতীত্ব রক্ষার আখ্যানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ভূয়সী প্রশংসা পায়। ১৯৮০ সালে নির্মিত ‘সখী তুমি কার’ চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের জটিল মনস্তত্ত্ব, ভালোবাসার টানাপোড়েন এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সূক্ষ্ন সমীকরণ। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘এখনই সময়’ ছবিটি তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব, হতাশা, শিক্ষাজীবনের অস্থিরতা ও সামাজিক মূল্যবোধের ধস নিয়ে তৈরি এক সাড়াজাগানো সামাজিক-রাজনৈতিক নির্মাণ। অন্যদিকে ১৯৮৮ সালের ‘দুই জীবন’ চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে দাম্পত্য জীবন, মানুষের ব্যক্তিত্বের সংঘাত এবং ভালোবাসার নানামাত্রিক টানাপোড়েনের এক অতীব নিখুঁত ও আবেগঘন রূপ। এ ছাড়া তিনি ‘জোয়ার ভাটা’, ‘পেনশন’ এবং ‘বিহঙ্গ’-এর মতো সামাজিক ও বাস্তবমুখী সিনেমা নির্মাণ করে ঢালিউডের ধারায় এক নতুন নান্দনিক মাত্রা যোগ করেছিলেন।
আবদুল্লাহ আল মামুন একজন দূরদর্শী নির্দেশক ও নাট্যকারের পাশাপাশি ছিলেন এক প্রখর প্রতিভাধর অভিনেতা। মঞ্চনাটক, বিটিভির ছোট পর্দা কিংবা রুপালি সিনেমার বড় পর্দা-যে কোনো মাধ্যমেই তিনি যখন কোনো চরিত্রে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর বাচিক অভিনয়, সংলাপ প্রক্ষেপণ এবং শারীরিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। মঞ্চে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো ছিল যেমন জীবন্ত, তেমনই বৈচিত্র্যময়। টিভি নাটকেও তাঁর সাবলীল উপস্থিতি বারবার প্রমাণ করেছে যে, একজন লেখক যখন নিজের লেখা চরিত্র নিজেই পর্দায় রূপদান করেন, তখন তার গভীরতা কতটা তীব্র হতে পারে। ‘সারেং বউ’ বা অন্যান্য চলচ্চিত্রে তাঁর পার্শ্বচরিত্রের ছোট ছোট অভিনয়গুলোও দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।
নাট্যকার পরিচয়টি তাঁর জীবনের প্রধান আলোকছটা হলেও আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন এক অত্যন্ত উর্বর মননের কথাশিল্পী ও ঔপন্যাসিক। সামাজিক পর্যবেক্ষণ, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা এবং নিজের জীবনের গভীর অভিজ্ঞতাকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন বেশ কয়েকটি বহুল পঠিত উপন্যাসে। তাঁর রচিত ‘মানবমুখী’ উপন্যাসে ধরা পড়েছে মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যকার দ্বন্দ্বে ঘেরা এক মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাস। ‘পয়োমুখম’ উপন্যাসে ফুটে ওঠে সামাজিক ভণ্ডামি এবং মানুষের ভেতরের সত্য ও বাইরের মিথ্যার জটিল সম্পর্ক। ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে মানুষের অস্তিত্বের শিকড়, সংগ্রাম ও নিরন্তর বেঁচে থাকার আশাবাদী বয়ান। আর ‘খলনায়ক’ উপন্যাসটি ছিল সমাজের তথাকথিত খল চরিত্রগুলোর পেছনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ অনুসন্ধানের এক বস্তুনিষ্ঠ সাহিত্য দলিল। সাহিত্যের মূল সুরেই তিনি প্রতিনিয়ত অনুসন্ধান করেছেন মানুষের ভেতরকার চিরন্তন আলো ও আঁধার, সততা ও প্রতারণার চিরস্থায়ী সংঘাতকে।
বাংলা সংস্কৃতি, থিয়েটার, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে অসামান্য ও অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুল্লাহ আল মামুন জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বহু সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য লাভ করেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক। নাট্যসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি অর্জন করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ একাধিক বিভাগে একাধিকবার তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্র ও নাটকে আজীবন অবদানের জন্য প্রথম আলো মেরিল পুরস্কারসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক তিনি সম্মানিত হয়েছেন।
আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন একজন আপাদমস্তক সংস্কৃতির পাহারাদার। তিনি থিয়েটারকে মনে করতেন সমাজ বদল ও আত্মশুদ্ধির প্রধানতম হাতিয়ার। তিনি এমন এক সময়ে নাটক লিখেছেন ও নির্মাণ করেছেন, যখন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ নানাবিধ সামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর সৃষ্টি করা চরিত্রগুলো-যারা প্রতিনিয়ত বাঁচার লড়াই করছে, নৈতিকতার সাথে আপস করছে কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াচ্ছে-তারা আজও আমাদের আধুনিক সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট তাঁর প্রয়াণের মাধ্যমে বাংলা নাট্যাঙ্গন তার এক অন্যতম প্রজ্ঞাবান অভিভাবক ও বাতিঘরকে হারায়। তবে তাঁর রেখে যাওয়া নাট্যরেখা, নির্দেশনানীতি, চলচ্চিত্র ও কালজয়ী সাহিত্যকর্ম আজও নতুন প্রজন্মের তরুণ নির্দেশক ও নাট্যকর্মীদের আলোর পথ দেখায়। আবদুল্লাহ আল মামুন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বন্ধনে আবদ্ধ নন; তাঁর শিল্পভাবনা ও চেতনা চিরন্তন। বাংলা সংস্কৃতির সোনালি ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল আলো হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
সানা/আপ্র/২২/৮/২০২৬