ফেডারেশন কাপ দিয়ে ২৫ আগস্ট ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শুরুর দিনক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে খেলা মাঠে গড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দল চূড়ান্ত না হওয়া, টুর্নামেন্টের ড্র না হওয়া এবং অধিকাংশ ক্লাবের প্রস্তুতি শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ঘরোয়া ফুটবল শুরু হচ্ছে না-এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে খেলা কত দিন পিছিয়ে যাবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও পেশাদার লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফেডারেশন কাপের দল চূড়ান্ত হয়নি, ড্রও অনুষ্ঠিত হয়নি। ফর্টিস এফসি ও পুলিশ এফসি ছাড়া অধিকাংশ ক্লাবই এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতে যায়নি।
এর মধ্যে বসুন্ধরা কিংস ও ইয়ংমেন্স ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুমের কাঠামো ও সূচি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সপ্তম নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। গুলশানের লেকশোর হাইটস হোটেলের ব্যালি সম্মেলনকক্ষে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সভাটি হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সভায় ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ সূচি ও মৌসুম শুরুর সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির আগের কয়েকটি নিয়মিত ও জরুরি সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং ষষ্ঠ মূলতবি সভায় আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ‘বাফুফে কংগ্রেস ২০২৫’-এর তারিখ ও ভেন্যু নির্ধারণের বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিবিধ আলোচ্যসূচি ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই অংশেই ঘরোয়া ফুটবল শুরুর সময়সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ঘরোয়া ফুটবল দ্রুত শুরু করতে গিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ক্লাবগুলোর আপত্তির মুখেও পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মোহামেডান ও আবাহনী কয়েক দিন খেলা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ, ঘরোয়া মৌসুম শুরুর কিছুদিন পরই জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় আবার খেলা বন্ধ রাখতে হতে পারে।
ক্লাবগুলোর যুক্তি, মৌসুম শুরুর জন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে আবাসিক ক্যাম্প ও অনুশীলন শুরু করলে বাড়তি ব্যয় হয়। অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় দলের দায়িত্বে খেলোয়াড় ছাড়তে হলে সেই প্রস্তুতি ও ব্যয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন একতরফাভাবে ঘরোয়া মৌসুম শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে ক্লাবগুলো তা কতটা মেনে চলবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবারের সভায় তাই শুধু ফেডারেশন কাপের সূচিই নয়, জাতীয় দলের কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরো ঘরোয়া মৌসুম কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলোর প্রস্তুতি, ফিফার নিষেধাজ্ঞা, জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি এবং মৌসুমের আর্থিক বাস্তবতা-সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ঘরোয়া ফুটবলের পরবর্তী পথ নির্ধারণ করতে হবে।
সানা/আপ্র/২২/৮/২০২৬