কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর পর ওই এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে না মানার অভিযোগে ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানতে চেয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় মির্জা গালিব স্ট্রিটে পাঁচতলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ছিল শিখা ইন। সম্প্রতি সেখানে ভয়াবহ আগুনে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। আগুন ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুর ছিলেন। নিহত দুই ভারতীয়র একজন শিখা ইনের ১৯ বছর বয়সী কর্মী সন্দ্বীপ পাসোয়ান। তাঁর বাড়ি ঝাড়খন্ডের গিরিডিতে। অপরজন যোগ নারায়ণ আগরওয়াল, বয়স ৬৮ বছর; তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে।
প্রাথমিক তদন্তে হোটেলের অভ্যর্থনাকক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের অন্যান্য অংশে।
হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ: অগ্নিকাণ্ডের পর শিখা ইন পরিচালনা নিয়েও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। হোটেলটির মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি আবুজাফর নামের এক ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে মাসিক ৪০ হাজার রুপি ভাড়ায় ১১ মাসের জন্য হোটেলটি ইজারা দেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে মোট ১০ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি পর্যটক।
ঘটনার পর হোটেলটির ইজারাদার আবুজাফরকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁর স্ত্রী এখনো পলাতক। একই মালিকের আরেকটি হোটেল ‘যাপন’-এর এক কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
আবুজাফরকে আদালতে হাজির করা হলে কলকাতার আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের অন্য হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও এখন কঠোর নজরদারির আওতায় এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের শোকজ নোটিশের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।
সানা/আপ্র/২১/৮/২০২৬