গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল

হাওরে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর ধানক্ষেত

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট

প্রকাশিত: ০০:৪৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৮ এএম ২০২৬
হাওরে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর ধানক্ষেত
ছবি

চোখের সামনে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও হাহাকার -ছবি সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও হাহাকার।

জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমের সর্বোচ্চ। পানির চাপে বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ফসল রক্ষার সুযোগ কমে গেছে। ইতোমধ্যে জেলার ছোট-বড় প্রায় ২০টি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাকি জমির বড় অংশই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে চলেছে।

সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, শাল্লা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক হাওরে পানি ও নদীর পানির সমান্তরাল প্রবাহ থাকায় নিষ্কাশনের সুযোগ নেই। ফলে জমির ধান দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পানির চাপে বিভিন্ন ফসলরক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মধ্যনগর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকায় একাধিক বাঁধ ভেঙে নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে হাওরে। এতে আগেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাতের ঝুঁকি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় জমিতে কোমরসমান পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিনও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কাটা ধান শুকানো সম্ভব না হওয়ায় আরো ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আনার চেষ্টা চলছে। তবে চলমান পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলে আগামী কয়েক দিনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৯/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

লটকনের বাম্পার ফলনে হাসি ফিরেছে নরসিংদীর চাষির
২২ জুলাই ২০২৬

লটকনের বাম্পার ফলনে হাসি ফিরেছে নরসিংদীর চাষির

দেশের ফল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জেলা নরসিংদীতে চলতি মৌসুমে লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়...

হাওরাঞ্চলে মৎস্য চাষ ও পশু পালনে কৃষকের জীবিকা নির্ভরশীল
১৯ জুলাই ২০২৬

হাওরাঞ্চলে মৎস্য চাষ ও পশু পালনে কৃষকের জীবিকা নির্ভরশীল

হাওরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থার আরেকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো গবাদিপশু পালন। শীতকালে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক...

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বীজ সংরক্ষণাগার পরিত্যক্তে বঞ্চিত কৃষক
১৯ জুলাই ২০২৬

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বীজ সংরক্ষণাগার পরিত্যক্তে বঞ্চিত কৃষক

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত কোটি টাকার বীজ সংরক্ষণাগ...

দেশের বাজারে জামের বিচি আর বিদেশে যায় রস
১৯ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে জামের বিচি আর বিদেশে যায় রস

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি শহরের গায়ে মাখেনি। ঢাকার কারওয়ান বাজারে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে দিনের ব্যস্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 ঘন্টা আগে