নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে *সপ্তবর্ণা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সনদ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান*।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটের ইয়ান-তুন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজনীতি, প্রশাসন, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক এবং চ্যানেল আই টিএমএসএস মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬-এর শ্রেষ্ঠ নজরুলসংগীত শিল্পী শহীদ কবির পলাশ, জামালপুরের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আসাদুল ইসলাম, কানাই লাল বণিক, সাব-রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্য্য, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অলোক বসু, ইউছুপ আলী, শিক্ষানুরাগী মাহবুব আরেফিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. কারিরুল হক মিলন এবং সংগীতশিল্পী ও সংগঠক মেহেরিমা ফেরদৌসী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস। সঞ্চালনায় ছিলেন সপ্তবর্ণা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল অরুন চৌধুরী। সহযোগিতায় ছিলেন টুম্পা চৌধুরী ও মেহেরিমা ফেরদৌসী।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় বক্তারা বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা একটি সুস্থ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সপ্তবর্ণা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোপাল বৈরাগী, দৈনিক আজকের প্রত্যাশা-এর সম্পাদক এস কে সানা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নীলমণি আইচ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুখবর ডটকম-এর নির্বাহী সম্পাদক খোকন কুমার রায়, সংগীতশিল্পী ও সপ্তবর্ণা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা মানিক রহমান সহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সনদ প্রদান শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন শহীদ কবির পলাশ, অরুন চৌধুরী, মানিক রহমান, খোকন কুমার রায়, নীলমণি আইচ, গোপাল বৈরাগী, সঞ্জয় কুমার আচার্য্য, পপি রাণী, মো. আসাদুল ইসলাম, মেহেরিমা ফেরদৌসী, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, টুম্পা চৌধুরী, লগ্ন চৌধুরীসহ সপ্তবর্ণা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ক্ষুদে শিল্পীরা। বাংলা আধুনিক, নজরুলসংগীত, দেশাত্মবোধক ও লোকসংগীতের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
শিল্প, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ আয়োজনে অতিথি, শিল্পী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ এনে দেয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
এসি/আপ্র/২৬/০৭/২০২৬