বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ব্রাজিলের মডেল কেরোলে চাভেস। প্রিয় ফুটবলারদের ছবি সংবলিত স্টিকার দিয়ে নিজের শরীর সাজিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই ভিডিওতে অনুসারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—‘বলুন তো, নেইমারের স্টিকারটি কোথায়?’
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে প্রথমে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ রঙের বিকিনিতে দেখা যায় কেরোলে চাভেসকে। পরে তিনি প্রায় সাত ঘণ্টা সময় নিয়ে নিজের শরীরে এক হাজারের বেশি ফুটবলারদের স্টিকার লাগান। স্টিকারগুলোর মধ্যে ছিলেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ বিশ্বের বিভিন্ন তারকা ফুটবলার।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বকাপের নতুন সুন্দরী হয়ে উঠেছি। কেমন লাগছে? কোন ফুটবলারের স্টিকার কোথায় থাকবে, সেটি ভাবতেই সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি।’ একই সঙ্গে অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘ভিনি আর নেইমারের স্টিকার খুঁজে বের করতে পারবেন?’
ভিডিওতে ব্যবহৃত স্টিকারগুলো জনপ্রিয় ‘পানিনি’ সংগ্রহযোগ্য স্টিকার। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই স্টিকার সংগ্রহ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। নিজের এই অভিনব উপস্থাপনাকে কেরোলে চাভেস ‘জীবন্ত পানিনি স্টিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, ফুটবলের প্রতি ছোটবেলার ভালোবাসা এবং ভিন্নধর্মী উপস্থাপনাকে একত্র করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ তার সৃজনশীলতাকে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। অতিরিক্ত খোলামেলা উপস্থাপনার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালার বিষয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ব্রাজিলের ‘সবচেয়ে সুন্দর ও আবেগপ্রবণ সমর্থক’ নির্বাচনের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যেও এই ভিডিও তৈরি করেছেন কেরোলে চাভেস। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এবারের বিশ্বকাপেও একই ধরনের কনটেন্ট থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
চাভেসের এই উদ্যোগের পর একই ধাঁচের ভিডিও প্রকাশ করেছেন মেক্সিকোর মডেল আদ্রিয়ানা অলিভারেজও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে পারলাম না। জীবন উপভোগ করুন, বিশ্বকাপ উপভোগ করুন।’
এসি/আপ্র/১৮/০৬/২০২৬