ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় রাতভর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। হামলায় নারী ও শিশুসহ একাধিক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২ আগস্ট) তারা জানায়, প্রায় মধ্যরাতে ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন আবাসিক ভবনে হামলা শুরু করে। গাজার মধ্যাঞ্চল, গাজা সিটি ও খান ইউনিসে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে।
সিভিল ডিফেন্সের এক মুখপাত্র জানান, গাজার মধ্যাঞ্চলের কাছে একটি ভবনে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে চালানো হামলায় এক দম্পতি নিহত হন এবং আরো কয়েকজন আহত হন। গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় এক বৃদ্ধ ও এক শিশু নিহত হয়। দক্ষিণের খান ইউনিস শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে চালানো আরেক হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হন।
এই হামলার আগে হামাস জানিয়েছিল, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত একটি পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে তারা সম্মত হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ ছাড়া গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। একটি রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, হামাসের বাস্তব ও যাচাইযোগ্য অস্ত্রসমর্পণ ছাড়া কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েলকে আগে গাজায় সব ধরনের হামলা ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপরই কেবল তারা ভারী অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে বিবেচনা করবে।
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও গাজায় হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করলেও মাটির পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আল আরাবিয়া
সানা/আপ্র/৩/৮/২০২৬