গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ইলিশের সংকটে দিশেহারা জেলে ও ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১১:২৮ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪২ এএম ২০২৬
ইলিশের সংকটে দিশেহারা জেলে ও ব্যবসায়ীরা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে ইলিশের স্বল্প উপস্থিতির কারণে কক্সবাজার উপকূলে প্রত্যাশিত ইলিশ মিলছে না। এতে জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ছোট ট্রলারে কিছু সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও ইলিশের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে একদিকে ঘাটে মাছের আমদানি কমেছে, অন্যদিকে বাড়ছে লোকসানের চাপ। তবে সংশ্লিষ্টদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইলিশের প্রকৃত মৌসুম শুরু হবে।

সরেজমিনে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, ঘাটে ভিড়ছে মূলত ছোট ট্রলার। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বড় ট্রলারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ছোট ট্রলারগুলো থেকে লইট্টা, চিংড়ি, পোপা, ছুরি ও রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ নামানো হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না।

জেলেদের ভাষ্য, ইলিশের দেখা না মিললেও উপকূলসংলগ্ন এলাকায় এক থেকে দুই দিনের জন্য জাল ফেললে কিছু সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। জেলে কামাল সিকদার জানান, বর্তমানে ছোট ট্রলারগুলো স্বল্প সময়ের জন্য মাছ ধরতে গিয়ে এক ড্রাম মাছ ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।

আরেক জেলে রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন মূলত লইট্টা, চিংড়ি ও পোপা মাছ ধরা পড়ছে। ঘাটে চিংড়ি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং লইট্টা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারেও দাম বেশি রয়েছে।

এদিকে সরকারি ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বড় ট্রলার সাগরে গেলেও বারবার বৈরী আবহাওয়া ও সতর্ক সংকেতের কারণে ফিরে আসতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাগরে ইলিশের তীব্র সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ট্রলার অলস পড়ে রয়েছে এবং চলমান ব্যয়ে বাড়ছে লোকসান।

মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন-উর-রশীদ বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চাহিদামাফিক ইলিশ বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ মিলছে না। জেলেদের তথ্য অনুযায়ী, বিরূপ আবহাওয়া ও দমকা বাতাসের কারণে ইলিশ শিকার ব্যাহত হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার মালিক ট্রলার উপকূলে তুলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আয় বন্ধ থাকলেও ব্যয় অব্যাহত থাকায় লোকসানের বোঝা দিন দিন বাড়ছে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমানে সাগরে ইলিশ প্রায় নেই বললেই চলে। অন্য মাছ কিছুটা মিললেও তা দিয়ে একটি ট্রলার পরিচালনার ব্যয়ও ওঠে না। তিনি জানান, একটি ট্রলারে মাত্র ১০ থেকে ২৫টি ইলিশ ধরা পড়ছে। এত অল্প মাছ দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক মালিকের সাগরে যাওয়ার মতো মূলধনও ফুরিয়ে আসছে।

ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদের আশা, বৈরী আবহাওয়া কেটে গিয়ে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইলিশের প্রকৃত মৌসুম শুরু হবে এবং তখন কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়বে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রে ১৩৪ টন ইলিশ এবং ৯৬৮ টন অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ অবতরণ হয়েছে।

এসি/আপ্র/০৩/০৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফেসবুক খুললেই বিরোধীদের অপকর্ম দেখা যায়: এ্যানি
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুক খুললেই বিরোধীদের অপকর্ম দেখা যায়: এ্যানি

তারেক মাহমুদ: ফেসবুক খুললেই বিরোধী দলের নানা অপকর্ম ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা দেখা যায় বলে মন্তব্য করে...

নাগরপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগরপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিক্ষোভ ম...

গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোটসহ ৮ জেলে উদ্ধার
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোটসহ ৮ জেলে উদ্ধার

গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোটসহ আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।শু...

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

রাজবাড়ীর কালুখালীতে ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলাম খান (৫৫) নামে এক কৃষক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই