দেশে ঘোড়ার মাংস বিক্রি ও অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণকর্মী জয়া আহসান। জনস্বার্থে দায়ের করা এ রিটে আরো রয়েছে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট।
রিটে ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস বলে প্রতারণামূলকভাবে বিক্রি বন্ধের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে যা বলা হয়েছে
রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অসুস্থ ও সংক্রমিত ঘোড়া জবাই করে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
এ ছাড়া গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের বিষয়ে সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে আ দাবি করা হয়েছে—
* বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম বন্ধ করতে হবে
* উদ্ধার করা প্রাণীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে
* জাতীয় পর্যায়ে ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য বন্ধে নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে
গাজীপুরে কী ঘটেছিল
রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজীপুর-এ যৌথ অভিযানে একটি কারখানায় অবৈধ জবাইখানার সন্ধান পাওয়া যায়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়—
* গুরুতর অসুস্থ ৩৬টি ঘোড়া
* জবাইকৃত ৮টি ঘোড়ার মৃতদেহ
* বিপুল পরিমাণ মাংস
ভেটেরিনারি পরীক্ষায় প্রাণীগুলোর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক ও সন্দেহজনক যক্ষ্মার আলামত পাওয়া যায় বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
‘গরুর মাংস’ বলে বিক্রির অভিযোগ
রিটকারীদের অভিযোগ, এসব মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছিল।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জনস্বার্থে আদালতে তোলা হয়।
প্রাণী কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন
রিটকারীরা বলছেন, অবৈধ এ বাণিজ্য শুধু প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এসি/আপ্র/১১/০৫/২০২৬