দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র গায়িকা মাহবুবা রহমান মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।’ শুক্রবার মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে উনার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমানকে বাদ জুমা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান রুমানা।
১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মাহবুবা সংগীতজগতে পা রাখেন অল্প বয়সেই। মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার গান প্রথম প্রচারিত হয়।
পঞ্চাশ ও সত্তর দশকে রেডিও ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে মাহবুবা রহমান ছিলেন অন্যতম। পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তিনি গেয়েছিলেন ‘মনের বনে দোলা লাগে’, যা তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।
এরপর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের সুরে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ ছবির ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’ গানে কণ্ঠ দেন। এরপর তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে সরোদবাদক তিমিরণের সুরে এবং কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লেখা ‘মোতি হো কে সিসা হো, জো টুট গ্যায়া’ গানটি করেন। এ ছবির পরিচালক ছিলেন এ জে কারদার। ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন খান আতাউর রহমান ও তৃপ্তি মিত্র।
মাহবুবা রহমান নিজের সংগীতগুরু মমতাজ আলী খানের সুরে অনেকগুলো গান করেন। দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া এসব গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘বৈদেশি নাগর’, ‘যাইও না যাইও না বৈদেশে যাইও না’ এবং ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবির ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’ ।
স্বামী খান আতাউর রহমানের সঙ্গে প্রথম রেডিওতে মাহবুবা রহমান গেয়েছেন ‘আমার থাকত যদি পাখির মতো ডানা’ গানটি। ১৯৬১ সালে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে দুটি গান করেন, ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ ও ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’। ১৯৬৮ সালে করাচির হিজ মাস্টার ভয়েস থেকে খান আতাউর রহমানের সুরে এই শিল্পীর কিছু গান রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’, ‘আমার নব-লা কথা’, ‘সোনালি এই ধানের খেতে’, ‘আগে জানি না রে দয়াল’, ‘তুমি দাও দেখা দরদি’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’, ‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’, ‘আমার মন ভালো না গো প্রাণ ভালো না গো’ গানগুলো উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতেও গান করেন মাহবুবা রহমান। পাশাপাশি ‘সোনার কাজল’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতেও প্লেব্যাক করেন তিনি।
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’, ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’সহ বহু গান। এছাড়া তিনি ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘রাজা সন্ত্রাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’সহ বহু চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৭/৩/২০২৬