উপস্থাপনায় ব্যস্ততা, অভিনয়ে বেছে বেছে কাজ আর বিজ্ঞাপনে সরব উপস্থিতি- সব মিলিয়ে নিজের আলাদা একটি জায়গা তৈরি করেছেন মৌসুমী মৌ। টেলিভিশনের পর্দা থেকে করপোরেট মঞ্চ, স্পোর্টস শো থেকে সেলিব্রিটি টকশো; উপস্থাপনায় নিয়মিতই দেখা মেলে তার। তবে এত ব্যস্ততার মাঝেও অভিনয়ের ক্ষেত্রে বেশ বেছে পা ফেলতে চান মৌসুমী মৌ। গতানুগতিক কিংবা শুধুই ভিউনির্ভর কাজের চেয়ে গল্প ও চরিত্রের গুরুত্বকেই বেশি প্রাধান্য দেন এই উপস্থাপক ও অভিনেত্রী।
তাই অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ‘যে কোনো কাজ’ করতে রাজি নন মৌসুমী মৌ।
বিশেষ করে দিবস কেন্দ্রিক নাটকগুলোতে বেশি দেখা যায় তাকে। কিছু দিন আগেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করলেন প্রয়াত কথা সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের লেখা গল্প অবলম্বনে আবুল হায়াতের পরিচালনায় সখিনা-তে, মে দিবসে ‘সুতোয় বাঁধা জীবন’ ছাড়াও আইস্ক্রিনের আলোচিত ওয়েব সিরিজ চক্র-২-তেও ছিলেন মৌ। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মৌ যেমনটা বললেন, অভিনয় তো করতেই চাই। যে কলগুলো পাই সেই কাজগুলো আমি করতে চাই না।
ভিকি জাহেদের চক্র ২-তে কাজ করেছি অনেক ডেডিকেশন দিয়েছি। এই ধরনের কাজের অংশ হতে চাই। মানে যা গতানুগতিক সেগুলো আমি করতে চাই না। নিয়মিত ভিউয়ের জন্য যেসব নাটক হয় সেগুলো আমি করতেই চাই না।
কিন্তু নাটকে ভিউ কেন্দ্রিক কাজগুলোই বেশি হচ্ছে। এর ফলে বেশি দর্শকদের কাছে পৌঁছানো যায়, প্রযোজক থেকে সংশ্লিষ্টরা লাভবান হন। তাহলে ভিউ বা ভাইরাল কাজ কেন করতে চান না? মৌসুমী মৌয়ের উত্তর, আমি আসলে ভিউ টাইপের আর্টিস্ট না।
এজন্য চাই না এসব কাজ করতে। আমার স্পোর্টস শো, স্টার নাইট, সেলিব্রেটি টকশো, রান্নার অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা দেখে থাকেন, তারা এক শ্রেণির দর্শক। তারা আমার কাজ পছন্দ করেন। ভিউ কেন্দ্রিক কাজগুলো করলে হয়তো আমার দর্শকরা মনঃক্ষুণ্ন হবেন। দর্শকদের কাছে সেই জায়গাটা নষ্ট হোক চাই না।
বাছবিচার করে অভিনয় করলেও মৌ উপস্থাপনায় ডুবে থাকেন মাসভর। বললেন, সুস্থ থাকলে তো আমি ত্রিশ দিনই কাজ করতে পারি। কিন্তু কিছুদিন আগে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় একুশ দিন স্টার নাইট, ক্যাফে লাইভ নিয়মিত শো বলে এটা ছাড়া কোনো কাজ করতে পারিনি।
যেগুলো কথা দেয়া ছিল অসুস্থতার জন্য সেগুলো করতে পারিনি। নিজেকে সময় দিয়েছি। আবার অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত আমার কোনো শিডিউল নেই। বড় বড় শোগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করছি, প্রতিটি কাজ সুন্দরভাবে করতে পারবো।
ভিউ কেন্দ্রিক আর্টিস্ট না হয়েও ছমাস শিডিউল নাই! এই প্রসঙ্গ উঠতেই ফোনের ওপারে একগাল হাসি দিয়ে মৌসুমী মৌ বলেন, আমি তো গেস্টদের পঁচা প্রশ্ন করি না। ভিউয়ের জন্য নেগেটিভ প্রশ্নে বিব্রত করি না। তবে হ্যাঁ, আমার শোতেও ভিউ হয়, সেগুলো পজিটিভ প্রশ্নের মাধ্যমে। দেখবেন মানুষ সেগুলো পছন্দ করে।
এসবের বাইরে শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন মৌসুমী মৌ। একটি ডিটার্জেন্ট পাওডারের পাশাপাশি ইস্পাহানি মির্জাপুর চায়ের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আরও দুবছর যুক্ত থাকছেন মৌ। এই সুবাদে চ্যানেল আইতে প্রচারিত ইস্পাহানি বাংলাবিদের উপস্থাপনা করবেন বলেও জানান মৌ।
ডিসি/আপ্র/৩০/০৯/২০২৬