ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলে গত তিন দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বমি ও ডায়রিয়াজনিত উপসর্গে আক্রান্ত এসব শিক্ষার্থীর অসুস্থতার কারণ হিসেবে পানিবাহিত রোগকে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় হলে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) ও শুক্রবার (৮ মে) অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন। তারা মূলত ডায়রিয়া ও বমির চিকিৎসা নিয়েছেন। শনিবারসহ মোট অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অসুস্থতার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধরনের উপসর্গ সাধারণত পানি বা খাদ্যজনিত কারণে হয়ে থাকে। ফলে পানিবাহিত রোগের সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পানির মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন বলেন, পানির ট্যাংক পরিষ্কারের পর পানিতে ব্লিচিংয়ের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। মুখ ধোয়া বা কুলি করার সময় এ গন্ধে বমি বমি ভাব হয়, এমনকি গোসলের পানিতেও একই সমস্যা দেখা যায়। তার অভিযোগ, ওয়াশরুম পরিষ্কারের সময় ব্লিচিং ব্যবহার করা হলেও তা যথাযথভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় না, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আরেক শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন জানান, কয়েক দিন ধরেই সমস্যা দেখা দিলেও গত দুই দিনে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পানির মান-দুটিই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে। তবে যারা ক্যান্টিনে খান না, তাদের মধ্যেও অসুস্থতার ঘটনা ঘটায় পানিকেই প্রধান কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বোতলজাত পানি কিনে পান করছেন।
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা সুলতানা বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পানির চৌবাচ্চাগুলো পেশাদারদের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৯/৫/২০২৬