গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

খালেদা জিয়া: অদম্য এক নারী, এক যুগের প্রেরণা

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৫:২৬ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৫:৩৭ এএম ২০২৬
খালেদা জিয়া: অদম্য এক নারী, এক যুগের প্রেরণা
ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া -ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম-যার জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব এক যুগের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের আকাঙক্ষাকে ধারণ করেছে। তাঁর প্রয়াণের পর দেশজুড়ে যে বিপুল জনসমাগম ও আবেগের আবহ দেখা গেছে, তা শুধু একজন রাজনীতিককে শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; ছিল একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁকে মরণোত্তর ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মান কেবল একজন নেত্রীর প্রতি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; বরং বাংলাদেশের নারীর সংগ্রাম, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতীকী স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাঁর পক্ষে নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের হাতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এই সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তটি যেন ইতিহাসের এক আবেগঘন প্রতিধ্বনি হয়ে রইল।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথচলা ছিল সহজ নয়। ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর শোক-স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড-তাঁর জীবনকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সেই শোকের সময় থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল-নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সুদূরপ্রসারী নীতিগত উদ্যোগ। নব্বইয়ের দশকে তাঁর সরকারের সময় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি জাতীয়ভাবে বিস্তৃত করা হয়; যা গ্রামীণ সমাজে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষার ব্যয় কমানো, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অল্প বয়সে বিয়ের প্রবণতা কমাতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজ বাংলাদেশের যে অসংখ্য নারী শিক্ষিত হয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন, তার পেছনে এসব নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি বিশ্বাস করতেন-একটি জাতির অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন নারী ও পুরুষ সমানভাবে উন্নয়নের অংশীদার হবে। তাই নারীর শিক্ষা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তাঁর সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিল। নারীকে কেবল সহানুভূতির দৃষ্টিতে নয়, বরং সক্ষম নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চিন্তাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি শক্তিশালী দিক ছিল দৃঢ়তা। রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহু প্রতিকূলতা, সমালোচনা এবং সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসকে ধরে রেখেছেন। এই দৃঢ়তা তাঁকে কেবল একজন দলীয় নেত্রী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত করেছে।

আজকের প্রজন্মের নারীদের জন্য খালেদা জিয়ার জীবন এক গভীর অনুপ্রেরণা বহন করে। তিনি দেখিয়েছেন-সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে একজন নারীও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে পারেন, ইতিহাসের গতিপথে নিজের স্বাক্ষর রেখে যেতে পারেন। সমাজের নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে মানসিক শক্তি প্রয়োজন, তার একটি প্রতীক হয়ে আছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মানিত করা তাই কেবল অতীতের একজন নেত্রীকে স্মরণ করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নারীদের জন্য একটি প্রতীকী বার্তা। সেই বার্তা হলো-নারীর সম্ভাবনা সীমাহীন, যদি তাকে সুযোগ ও মর্যাদা দেওয়া হয়।

বেগম জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই-কিন্তু তাঁর সংগ্রামের গল্প, তাঁর সাহসী নেতৃত্ব এবং নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতি তাঁর বিশ্বাস বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতে পারে, কিন্তু দৃঢ়তা ও অদম্য মানসিকতার যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলায় অনুপ্রেরণার আলো জ¦ালাবে।

সানা/আপ্র/১০/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সংঘাতের রাজনীতি নয়, সমঝোতার পথেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংঘাতের রাজনীতি নয়, সমঝোতার পথেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারো এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেয়ে পরস্পরকে ব...

আইনের ফাঁক বন্ধ না হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি থামবে না
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনের ফাঁক বন্ধ না হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি থামবে না

একজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা পুলিশের সাফল্য হতে পারে; কিন্তু একই অপরাধী যদি কিছুদিন পর আবারো একই অপরাধ...

বারবার বলতে হবে না ‘সংখ্যালঘু নন’, রাষ্ট্রের আচরণই তাঁকে অনুভব করাক—তিনি সত্যিই সমান
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারবার বলতে হবে না ‘সংখ্যালঘু নন’, রাষ্ট্রের আচরণই তাঁকে অনুভব করাক—তিনি সত্যিই...

জন্মাষ্টমীর পবিত্র দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি উচ্চারণ বি...

গ্যাস সংকটে অর্ধেক পোশাকশিল্প, চাই জরুরি সমাধান
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকটে অর্ধেক পোশাকশিল্প, চাই জরুরি সমাধান

২ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বসেছিল বাংলাদেশ প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে