গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মেনু

খালেদা জিয়া: অদম্য এক নারী, এক যুগের প্রেরণা

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৫:২৬ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪২ এএম ২০২৬
খালেদা জিয়া: অদম্য এক নারী, এক যুগের প্রেরণা
ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া -ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম-যার জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব এক যুগের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের আকাঙক্ষাকে ধারণ করেছে। তাঁর প্রয়াণের পর দেশজুড়ে যে বিপুল জনসমাগম ও আবেগের আবহ দেখা গেছে, তা শুধু একজন রাজনীতিককে শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; ছিল একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁকে মরণোত্তর ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মান কেবল একজন নেত্রীর প্রতি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; বরং বাংলাদেশের নারীর সংগ্রাম, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতীকী স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাঁর পক্ষে নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের হাতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এই সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তটি যেন ইতিহাসের এক আবেগঘন প্রতিধ্বনি হয়ে রইল।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথচলা ছিল সহজ নয়। ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর শোক-স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড-তাঁর জীবনকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সেই শোকের সময় থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল-নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সুদূরপ্রসারী নীতিগত উদ্যোগ। নব্বইয়ের দশকে তাঁর সরকারের সময় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি জাতীয়ভাবে বিস্তৃত করা হয়; যা গ্রামীণ সমাজে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষার ব্যয় কমানো, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অল্প বয়সে বিয়ের প্রবণতা কমাতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজ বাংলাদেশের যে অসংখ্য নারী শিক্ষিত হয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন, তার পেছনে এসব নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি বিশ্বাস করতেন-একটি জাতির অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন নারী ও পুরুষ সমানভাবে উন্নয়নের অংশীদার হবে। তাই নারীর শিক্ষা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তাঁর সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিল। নারীকে কেবল সহানুভূতির দৃষ্টিতে নয়, বরং সক্ষম নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চিন্তাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি শক্তিশালী দিক ছিল দৃঢ়তা। রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহু প্রতিকূলতা, সমালোচনা এবং সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসকে ধরে রেখেছেন। এই দৃঢ়তা তাঁকে কেবল একজন দলীয় নেত্রী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত করেছে।

আজকের প্রজন্মের নারীদের জন্য খালেদা জিয়ার জীবন এক গভীর অনুপ্রেরণা বহন করে। তিনি দেখিয়েছেন-সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে একজন নারীও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে পারেন, ইতিহাসের গতিপথে নিজের স্বাক্ষর রেখে যেতে পারেন। সমাজের নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে মানসিক শক্তি প্রয়োজন, তার একটি প্রতীক হয়ে আছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মানিত করা তাই কেবল অতীতের একজন নেত্রীকে স্মরণ করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নারীদের জন্য একটি প্রতীকী বার্তা। সেই বার্তা হলো-নারীর সম্ভাবনা সীমাহীন, যদি তাকে সুযোগ ও মর্যাদা দেওয়া হয়।

বেগম জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই-কিন্তু তাঁর সংগ্রামের গল্প, তাঁর সাহসী নেতৃত্ব এবং নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতি তাঁর বিশ্বাস বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতে পারে, কিন্তু দৃঢ়তা ও অদম্য মানসিকতার যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলায় অনুপ্রেরণার আলো জ¦ালাবে।

সানা/আপ্র/১০/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব
২৬ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একদিকে যেমন একটি ব্যক্তিগত বাস্...

জ্বালানি নিরাপত্তায় আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই
২৫ জুলাই ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তায় আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল সেতু, সড়ক বা উঁচু ভবন নির্মাণে পরিমাপ করা যায় না; নাগরিকের ঘরে চুলা জ্বলে...

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন
২৩ জুলাই ২০২৬

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন

হামে শিশুমৃত্যু আটশ অতিক্রম

নৈতিকতার কাঠগড়ায় রাজনীতি, জনআস্থার সুরক্ষায় কঠোরতার বিকল্প নেই
২৩ জুলাই ২০২৬

নৈতিকতার কাঠগড়ায় রাজনীতি, জনআস্থার সুরক্ষায় কঠোরতার বিকল্প নেই

গণতন্ত্রে একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ নয়, জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। সংসদ সদস্যরা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে