সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়–এর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুরো কাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে বাজেটের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা ধাপে ধাপে যুক্ত করার কথা রয়েছে।
এই কাঠামো প্রণয়নে জাতীয় বেতন কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গেছে, শুধু প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্যই বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১:৯.৪। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।
এছাড়া পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পেলে তা প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতাও নতুন করে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে একদিকে সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, অন্যদিকে সরকারের ওপর এককালীন ব্যয়ের চাপও তুলনামূলক কম থাকবে।
এসি/আপ্র/০৪/০৫/২০২৬