গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, বেসরকারি খাত রক্ষায় জোর

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৮ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫০ এএম ২০২৬
টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, বেসরকারি খাত রক্ষায় জোর
ছবি

শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -ছবি সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অর্থনীতিকে টেকসই পথে রাখতে সরকার টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার নীতি থেকে সরে আসছে এবং বেসরকারি খাতকে সুরক্ষা দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে অর্থায়ন করলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, সুদের হার বৃদ্ধি পায় এবং বেসরকারি খাত বিনিয়োগে বাধার মুখে পড়ে। তাই এই নীতিগত অবস্থান থেকে সরকার সরে যাবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্বের নীতির ফলে অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছিল এবং রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে এর সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে।

তিনি জানান, নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, কারণ পারিবারিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরা দক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগরি পণ্য এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে মূলধারায় আনা হচ্ছে। ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তার মাধ্যমে এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীতের মতো খাতগুলোও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তাই এসব খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা উল্লেখ করেন। এতে বেসরকারি খাত চাপের মুখে পড়েছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোকে কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য শক্তিশালী না হলে কর আদায়ও বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভোকেশনাল শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; বরং চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রেখে বাজারকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। এজন্য সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।


সানা/ডিসি/আপ্র/২৫/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্ববাজারে আবারো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবারো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে।...

দরপত্র ছাড়া আরো ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দরপত্র ছাড়া আরো ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই...

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার বাংলাদেশের ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। ইলিশ পাঠানোর অ...

পাঁচ মাসে রেকর্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধ সরকারের
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ মাসে রেকর্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধ সরকারের

দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে