কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও চালুর শুরুতেই গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সার্ভার সমস্যায় বারবার ব্যাহত হওয়ায় নিবন্ধন করা কিংবা পাম্পে গিয়ে সেবা পাওয়া- কোনো ক্ষেত্রেই স্বস্তি মিলছে না।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি তেল নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সুবিধা কার্যকর হয়নি।
পরদিনই কয়েকটি পাম্পে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সাতটি পাম্পে পুনরায় চালুর ঘোষণা এলেও সোমবার সার্ভার ডাউন ও রেজিস্ট্রেশন জটিলতায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। অনেক স্থানে ফুয়েল পাসধারীদের জন্য আলাদা লাইন থাকলেও সার্ভার সমস্যার কারণে তা কার্যকর করা যায়নি। কোথাও আবার সবাইকে এক লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে।
এর ফলে যারা নিবন্ধন করেছেন এবং যারা করেননি- উভয়ই প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল না পেয়ে তাদের বারবার পাম্পে আসতে হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়। এতে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি ও তীব্র ভোগান্তি দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিজিটাল ব্যবস্থায় ফুয়েল পাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্পে দেখা যায়, কোথাও আলাদা ফুয়েল পাস লাইন থাকলেও অনেক জায়গায় তা নেই। ফলে সব ধরনের যানবাহন একই লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। রাজধানীর মেঘনা পাম্প, খিলক্ষেত এলাকা, সোনার বাংলা পাম্প, এয়ারপোর্ট সংলগ্ন পাম্প এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনসহ একাধিক স্থানে একই চিত্র দেখা গেছে।
এক মোটরসাইকেল চালক জানান, তিনি প্রথম দিনেই অ্যাপে নিবন্ধন করলেও পাম্পে গিয়ে সার্ভার সমস্যায় তেল পাননি। পরে সীমিত পরিমাণ তেল পেয়ে আবার দ্রুতই ফিরে আসতে হচ্ছে। আরেক ভোক্তা অভিযোগ করে বলেন, অফিসে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। এদিকে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুরুতে প্রায় ৫১ হাজার মোটরসাইকেল চালক নিবন্ধন করলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি সমাধানে কাজ চলছে এবং সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে অন্যান্য যানবাহনেও এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সানা/আপ্র/১৩/৪/২০২৬