বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা। ২০২৫ সালে এ অঙ্ক ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
একইভাবে যমুনা সেতুতেও নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ পারাপার হয়েছিল ৪৮ হাজার ৩৬৮টি যানবাহন। ২০২৬ সালে যমুনা সেতুতে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। ২০২৫ সালে এ অঙ্ক ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।
এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টোল সংগ্রাহকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষ টোল সংগ্রাহক নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন বৃদ্ধি, বিরতিহীন বৈদ্যুতিন টোল ব্যবস্থা চালু, মাওয়া বাস টার্মিনাল উন্মুক্ত করা, নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত যান চলাচল তদারকি, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক তদারকি দল গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা, এলেঙ্গা বাস টার্মিনাল উন্মুক্ত করা, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী উদ্ধারযানসহ মোট তিনটি উদ্ধারযানের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, জরুরি টোল লেন চালু এবং ইফতারসামগ্রী বিতরণ।
সানা/আপ্র/২০/৩/২০২৬