রাজধানীর পাইকারি বাজারে যে দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, স্থানীয় খুচরা বাজারে তা কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য বেশি টাকা। চাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা থেকে শুরু করে মাছ, মুরগি ও মাংস - প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে দামের বড় ব্যবধান। কোনো পণ্যে কেজিতে ১০-২০ টাকা, আবার কোনো কোনো মাছ ও মাংসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের আয় দিয়ে সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রশ্ন উঠছে, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের এই ব্যবধানের কতটা পরিবহন, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মীদের বেতনের মতো যৌক্তিক ব্যয়ের কারণে, আর কতটা অতিরিক্ত মুনাফার ফল? ব্যবসায়ীরা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বললেও ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব, যৌক্তিক মুনাফা ও মূল্য তদারকির ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে ক্রেতার পকেটে।
বুধবার ২১ অক্টোবর রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি বাজারের সঙ্গে মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও, বাসাবো ও কমলাপুরের স্থানীয় বাজারের পণ্যমূল্য তুলনা করে দামের বড় ব্যবধানের চিত্র পাওয়া যায়। অন্যদিকে, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর মেরাদিয়া বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঘুরে দেখেও ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয়ের চাপের চিত্র উঠে এসেছে। বাজার ও সময়ের পার্থক্য থাকলেও দুই পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট, নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
চালেই কেজিতে বাড়তি ৪ থেকে ৯ টাকা
পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ চাল কেনায় খরচ হয়। রাজধানীর পাইকারি ও স্থানীয় বাজারের দামের তুলনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের চালের খুচরা মূল্য পাইকারি দামের চেয়ে বেশি।
কাওরান বাজারে গুটি স্বর্ণা চালের ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও, বাসাবো ও কমলাপুরের স্থানীয় বাজারে একই চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়। এতে কেজিতে ব্যবধান ৬ থেকে ৯ টাকা।
পাইজাম চালের ২৫ কেজির বস্তার পাইকারি দাম ১ হাজার ২০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে এই চালের দাম ৫২ থেকে ৫৬ টাকা। আটাশ চালের ২৫ কেজির বস্তা কাওরান বাজারে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কেজিপ্রতি ৫৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে একই চালের দাম ৬০ থেকে ৬২ টাকা।
রাজু মিনিকেট চালের ২৫ কেজির বস্তার দাম পাইকারি বাজারে ১ হাজার ৬৫০ টাকা, কেজিপ্রতি ৬৬ টাকা। স্থানীয় বাজারে তা ৭০ থেকে ৭৪ টাকা। দাওয়াত মিনিকেটের ২৫ কেজির বস্তা পাইকারি বাজারে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, কেজিপ্রতি ৭৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে একই চালের দাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।
চালের মতো নিয়মিত কেনা পণ্যে কেজিপ্রতি কয়েক টাকা বাড়তি ব্যয়ও মাস শেষে পরিবারের মোট খরচে বড় প্রভাব ফেলে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারকে তাই শুধু পণ্যের দাম নয়, কেনার পরিমাণও হিসাব করে চলতে হচ্ছে।
আলু-পেঁয়াজ-রসুন-আদায় দামের বড় ফারাক
কারওরান বাজারে সাদা ও লাল আলুর কেজি ২০ টাকা হলেও রাজধানীর কয়েকটি স্থানীয় বাজারে একই আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ, কেজিতে ১০ টাকা ব্যবধান। তবে ২৩ অক্টোবর মেরাদিয়া বাজারে আলুর দাম দেখা গেছে ৪০ টাকা কেজি। বাজার ও সময়ের ভিন্নতায় এই পার্থক্য থাকলেও ক্রেতার জন্য তা বাড়তি ব্যয়েরই ইঙ্গিত দেয়।
কাওরান বাজারে বাছাইকৃত বড় পেঁয়াজের কেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে একই ধরনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। কেজিতে ব্যবধান ১১ থেকে ১৮ টাকা।
আমদানিকৃত রসুনের কেজি পাইকারি বাজারে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। স্থানীয় বাজারে তা ২০০ থেকে ২১০ টাকা। আদার কেজি পাইকারি বাজারে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। অর্থাৎ, রসুন ও আদা কিনতে কেজিতে কয়েক দশক টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
মেরাদিয়া বাজারে ২৩ অক্টোবর রসুনের দাম ছিল ২০০ টাকা কেজি এবং আদার দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। এসব পণ্যের দামের সঙ্গে পাইকারি বাজারের ব্যবধানের বিষয়টি বাজার তদারকির গুরুত্ব সামনে আনে। একই সঙ্গে বাজার ও সময়ভেদে দামের পরিবর্তনও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
মাছ-মাংসের বাজারেও বাড়তি খরচ
পাইকারি ও খুচরা বাজারে মাছের দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। কাওরান বাজারে দুই কেজি আকারের রুই ও কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। স্থানীয় বাজারে একই আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাঙাশ মাছের দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ক্ষেত্রে পাইকারি দাম কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। আড়াই থেকে তিন কেজি বা তার চেয়ে বড় পাঙাশ পাইকারি বাজারে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।
মুরগির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। কাওরান বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির পাইকারি দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা। সাদা লেয়ার মুরগির কেজি পাইকারি বাজারে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগির পাইকারি দাম ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে তা ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা।
গরুর মাংসের কেজি কাওরান বাজারে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস পাইকারি বাজারে কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ছাগলের মাংসের কেজি পাইকারি বাজারে ১ হাজার ১৫০ টাকা, স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ২০০ টাকা।
মেরাদিয়া বাজারে ২৩ অক্টোবর গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮২০ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজি। রুই মাছের দাম আকারভেদে ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি এবং পাঙাশ ও তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
সবজি থেকে সাবান-ময়দা, কোথাও স্বস্তি নেই
মেরাদিয়া বাজারে ২৩ অক্টোবর বেগুনের দাম প্রকারভেদে ১০০, ১৪০ ও ১৮০ টাকা কেজি। পটল ৮০, ঝিঙা ১০০, চিচিঙ্গা ৮০, করলা ১০০, পেঁপে ৪০, শিম ১৬০, টমেটো ১৬০ ও শসা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৮০ টাকা এবং লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ঢ্যাঁড়স ৬০, বরবটি ১০০, মূলা ৮০, কাঁচা মরিচ ১৬০, আলু ৪০ ও রসুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করলেও দাম কমার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, কেনা দাম না কমলে খুচরা মূল্য কমানো কঠিন।
শুধু কাঁচাবাজার নয়, মুদি পণ্যের দামেও বাড়তি চাপ রয়েছে। মেরাদিয়া বাজারে দুই কেজি ময়দার দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। প্যাকেট আটা ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে। গায়ে মাখার বিভিন্ন সাবানের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। হুইল গুঁড়া সাবান প্রতি কেজি ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা এবং হুইল সাবান ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে।
খোলা চালের মধ্যে গুটি স্বর্ণার সর্বনিম্ন দাম ৫০ টাকা কেজি। ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকা হয়েছে। মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং চিকন মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে ২০০ টাকার কাছাকাছি।
এদিকে, সয়াবিন তেলের দাম আবার বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, বর্তমানে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার টাকা। লিটারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা বাড়লে পাঁচ লিটারের দাম বেড়ে ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৯০ টাকা হতে পারে।
রাসেল জেনারেল স্টোরের মালিক রাসেল খান বলেন, গায়ে মাখার সাবান, হুইল গুঁড়া সাবান, টুথপেস্ট, আটা ও ময়দাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা বাড়তে পারে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
বাজার করতে আসা আশরাফুল বলেন, পূজার ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা থাকায় পণ্যের দাম কমতে পারে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে উল্টো দাম বাড়তে দেখেছেন। কয়েক দিন আগে এক কেজির বেশি ওজনের রুই মাছ ৩৫০ টাকা কেজি দরে কিনলেও শুক্রবার দাম চাওয়া হয়েছে ৩৮০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, আয় ও সংসারের ব্যয়ের হিসাব মিলছে না, জীবন চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, গায়ে মাখার সাবান থেকে শুরু করে মূলা, আটা, ময়দা, মাছ ও মাংস - কোনো পণ্যের দামই নাগালের মধ্যে নেই। বাজারের এই পরিস্থিতিতে স্বস্তির বদলে অস্বস্তি নিয়েই চলতে হচ্ছে।
বাজার করতে আসা মনসুর আহমেদ বলেন, তেলাপিয়া মাছের কেজি ৩০০ টাকার ওপরে, ছোট মাছের দামও কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা। অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি। তাঁর কথায়, সবকিছু মেনে নিয়েই চলতে হচ্ছে, কিছু বলার নেই।
সবজির দোকানি আরিফের বক্তব্য, দ্রব্যমূল্য কমবে বলে মনে হয় না। বেশি দামে পণ্য কিনে আনলে কম দামে বিক্রি করা কঠিন; তাঁদেরও চলতে হয়।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি পরিচালন ব্যয়, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যয় কমাতে উদ্যোগ
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে।
রাজধানীর মুগদা বাজারের ভাই-ভাই জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোকলেছুদ্দিন মোল্লা বলেন, তাঁর দোকানে তিনজন কর্মী রয়েছেন, যাঁদের বেতন নিয়মিত বাড়াতে হচ্ছে। আগে মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা, এখন তা ছয় হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। দোকানভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার খরচও বেড়েছে। তাঁর দাবি, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান থেকে যে মুনাফা রাখা হয়, তা আরো বাড়ানো উচিত।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও অর্থায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিমও খুচরা ব্যবসার পরিচালন ব্যয়কে দামের ব্যবধানের একটি কারণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, দোকানের বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক হারে দিতে হয়। কর্মীদের বেতন, দোকানভাড়া, জ্বালানি ব্যয় এবং দোকানে চাঁদাবাজির মতো বিষয়ও ব্যবসার খরচ বাড়ায়। এসব ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়।
তবে তিনি মনে করেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারের ব্যবধান কমানো প্রয়োজন। জোর করে দাম কমানোর বদলে দোকানের পরিচালন ব্যয় কমাতে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।
অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ, কার্যকর তদারকির দাবি
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মনে করেন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সরকার মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। সাধারণত ভোজ্যতেল ও চিনির দাম সরকার সময়ে সময়ে নির্ধারণ করে। অন্যান্য পণ্যের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার পরিচালিত হচ্ছে।
সফিকুজ্জামানের ভাষ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে যৌক্তিক বিক্রয়মূল্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রেকর্ড রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। এর সুযোগে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনি কাঠামো প্রয়োগে সরকারের শিথিলতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, কৃষি বিপণন আইনে পণ্যের দামের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মুনাফার সীমা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব বিধান কার্যকর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানের পেছনে পরিবহন ও পরিচালন ব্যয়ের ভূমিকা থাকলেও তার অজুহাতে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। একই পণ্যের ক্রয়মূল্য, পরিবহন খরচ, দোকান পরিচালনার ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের হিসাব নিয়মিত পরীক্ষা করা গেলে দামের ব্যবধানের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব। পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ ও হিসাব সংরক্ষণ এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে শুধু দাম নির্ধারণ বা অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, স্বচ্ছ হিসাব এবং আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা। অন্যথায় পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের ফারাকের চাপ বহন করতে হবে সাধারণ ভোক্তাকেই।
সানা/আপ্র/২৩/১০/২০২৬