লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর শরীরে এসিড নিক্ষেপের আলোচিত মামলায় ঘটনার প্রায় ৯ বছর পর ২ নম্বর আসামি মুসা মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি, ভুক্তভোগীর স্বামী আফজাল হোসেন (আপন) এখনও পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে মুসা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই গৃহবধূ আমেনা খাতুনের (২৭) কাছে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দাবি পূরণ না হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে আমেনা খাতুনের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করা হয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করে। তবে দীর্ঘ ৯ বছরেও মামলার বিচার শেষ হয়নি এবং প্রধান আসামি গ্রেফতার এড়িয়েই রয়েছেন।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, “মামলার ২ নম্বর আসামি মুসা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
দীর্ঘ সময় পর এক আসামি গ্রেফতার হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা প্রধান আসামিসহ মামলার অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৩/৭/২০২৬