একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, অনুমোদিত নকশা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। প্রাথমিক পরিদর্শনে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী পরিদর্শনেও অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে নগরের জিইসি মোড় এলাকার মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল ও সিএসসিআর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
পরিদর্শনকালে চউকের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, অনুমোদিত কর্মকর্তা-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অনুমোদিত কর্মকর্তা-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে এবং প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব উদ্যোগে দ্রুত পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আংশিক ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হবে না। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, নগরের যানজট নিরসনে চউক, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। যেসব হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে, পরবর্তী পরিদর্শনে তাদের আয়তন অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না এবং সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চউক সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিদর্শনে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রয়োজনীয় পার্কিং স্থান না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিং স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
পরিদর্শন শেষে চউকের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। শিগগিরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
সানা/আপ্র/২১/৭/২০২৬