গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

মেনু

স্বামীর সঙ্গে তর্ক, বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে পেটালেন এসপি

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ

প্রকাশিত: ১৬:৫০ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৬ এএম ২০২৬
স্বামীর সঙ্গে তর্ক, বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে পেটালেন এসপি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এক বাসচালককে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের বিরুদ্ধে। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপারের (সাপাহার সার্কেল) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনে ধানসুরা যাওয়ার পথে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সাথে তর্কে জড়ান সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী জয়ন্ত বর্মন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাস রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে ছাড়ে। রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ওই বাসে যাত্রী হয়ে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে সিটবিহীন টিকিট কেটে উঠেছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মন। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে জয়ন্ত বর্মন বসেছিলেন সেটি থেকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। ওই সময়ে নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করেন জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যান জয়ন্ত। চালকের সঙ্গে চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা। এরপর নির্ধারিত গন্তব্যে ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান জয়ন্ত বর্মন।

এদিকে জয়ন্ত বর্মন গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন। টিকিট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করেন তিনি। এরপর চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি-ধমকি দেন শ্যামলী রানী বর্মন। যাত্রাপথে বার বার শ্যামলী রানী বর্মনের কল আসায় বাসটি নির্ধারিত সময়ে রাজশাহী পৌঁছাতে কিছুটা দেরী করে ফেলে। পরবর্তীতে রাত ১০টায় ‘হিমাচল’ পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে আনেন শ্যামলী রানী বর্মন।

সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি মারেন শ্যামলী রানী বর্মন। বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন তার স্বামী জয়ন্ত বর্মনও। এরপর সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের নির্দেশে তার বডিগার্ড আনন্দ বর্মন এসএস পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।

ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছেন। বাদল বলেন, এএসপি (শ্যামলী রানী বর্মন) ম্যাডাম এবং উনার স্বামী (জয়ন্ত বর্মন) আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে শরীরের গোপন জায়গা গুলোতে মেরেছে। উনি (শ্যামলী রানী বর্মন) বডিগার্ডকে বলেন- ‘মাইরা হাত-পা ভেঙে দে।’ তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ওই বাসে রাজশাহীর যাত্রী হিসেবে ছিলেন স্কুলশিক্ষক নাসির। ওই দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি বলেন, একজন শিক্ষিত মানুষ হয়েও জয়ন্ত বর্মন যে আচরণ করলেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহকারী পুলিশ সুপার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তিনি ওই বাসের ড্রাইভারের কাগজপত্র যে ভাষায় দেখতে চাইলেন এবং হুমকি দিলেন তা রীতিমতো শাস্তিযোগ্য বলে মনে হয়েছে। ফোনে এএসপি শ্যামলী রানীও অনেক হুমকি দিয়েছেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব বলেন, জয়ন্ত বর্মন স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে খুব বাজে আচরণ করেছেন। বাসের মধ্যে মনে হচ্ছিল উনি ড্রাইভার আর সুপারভাইজারকে মেরেই দেবেন। বারবার তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, আমাদের বাস এক চালককে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সার্কেল এসপি শ্যামলী রানী বর্মন নির্যাতন করার পর থেকে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি (শ্যামলী রানী বর্মন) আমাদের সাথেও অশোভন আচরণ করেছেন। আমরা অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি। অন্যাথায় হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে মুঠোফোনে অন কলে থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার বিষয়টি আমি নিজে শুনেছি। পরে ড্রাইভার এবং সুপারভাইজারকে রাতে অফিসে ডাকা হয়েছিল। ড্রাইভার এসে স্যরি বললেও সুপারভাইজার আসেননি। পরে মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। মারধরের বিষয়ে আমার নামে যে অভিযোগটি করা হচ্ছে তা সত্য নয়।

এসি/আপ্র/০৬/০১/২০২৫

সংশ্লিষ্ট খবর

দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ২
০৬ জুন ২০২৬

দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ২

কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শ...

সন্ত্রাসী হামলায় আইনজীবী হীরা গুরুতর আহত
০৬ জুন ২০২৬

সন্ত্রাসী হামলায় আইনজীবী হীরা গুরুতর আহত

দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আইনজীবী সারোয়ার জাহান হীরা সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তা...

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খাল দখল নিয়ে তিন দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
০৬ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খাল দখল নিয়ে তিন দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ই...

নীলফামারীতে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত, বাবা-ছেলে গ্রেফতার
০৫ জুন ২০২৬

নীলফামারীতে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত, বাবা-ছেলে গ্রেফতার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়ে এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় বাবা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ঢাকা আর বাসযোগ্য নেই, সব রোগের মূল বুড়িগঙ্গা

রাজধানী ঢাকার বর্তমান পরিবেশ ও নাগরিক দুরবস্থা নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এটা (ঢাকা) আর বাসযোগ্য মনে হয় না। ঘর থেকে বেরোলেই নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না, চারদিকে দূষিত বাতাস। আমার তো মনে হয়, ঢাকার সব রোগের মূলেই বুড়িগঙ্গা। আপনি কি মন্ত্রীর এই বক্তব্যে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 ঘন্টা আগে