আশির্বাদ রহমান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে ৬৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নানা জটিলতায় থমকে গেছে। স্থানীয়দের আপত্তি, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা এবং অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ‘চিলমারী সংযোগ সড়ক’ প্রকল্পের আওতায় উলিপুর বাইপাস সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী উলিপুর হেলিপ্যাড মোড় থেকে গুনাইগাছ মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর নির্ধারিত হলেও সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে, তবুও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
প্রকল্প ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনা ও অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনার আগাম তথ্য জেনে কিছু ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেছেন এবং পরে তা প্রকল্প নকশায় অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষতিপূরণ গ্রহণের চেষ্টা করেছেন। এ অভিযোগে সড়ক বিভাগের এক হিসাবরক্ষকসহ কয়েকজনের নামও আলোচনায় এসেছে।
অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বা তার পরিবারের নামে থাকা জমি অনেক আগেই বৈধভাবে কেনা হয়েছে এবং প্রকল্পের নকশার সঙ্গে সামান্য অংশ পড়লেও তা সরকারি উন্নয়নে গেলে আপত্তি নেই।
এদিকে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) উলিপুর পৌর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘উলিপুরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, উলিপুর শহরের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক অত্যন্ত জরুরি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ শুরু না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তারা দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান, অন্যথায় আন্দোলন আরো জোরদারের হুঁশিয়ারি দেন।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, স্থানীয় আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরত গেছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উলিপুরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে বহু প্রতীক্ষিত এই বাইপাস সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
সানা/আপ্র/২৫/৬/২০২৬