সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের প্রায় ৪০ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অধিকাংশ কাজ বাস্তবে হয়নি। কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী জয়নগর বেনীপাড়া থেকে শ্মশান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও শ্মশান উন্নয়নের জন্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। একই প্রকল্পে জেলা পরিষদ থেকেও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া খোদ্দবাটরা এলাকায় সিরাজ মাস্টারের বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সামান্য মাটি ফেলে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। একই রাস্তায় পূর্বেও একাধিকবার বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মানিকনগর, জয়নগর, নীলকণ্ঠপুরসহ একাধিক এলাকার রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কয়েকটি ইটের রাস্তা নির্মাণেও নিম্নমানের কাজ এবং নির্ধারিত মান বজায় না রাখার অভিযোগ উঠেছে।
জয়নগর সরসকাটি বাজার সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও কোনো কাজ হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে বসন্তপুর এলাকার একটি রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।এ ছাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া কালীমন্দির ও মদনমোহন মন্দির সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবগত নন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি, ফলে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলারোয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৬/২০২৬