এস এ খান শিল্টু, মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে মেহেরপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আবদাল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইছানুল হকের ৯ বছর বয়সী কন্যা শিশু তার বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে ডেকে একটি পাটখেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় মাঠে কর্মরত লোকজন শিশুর কান্নাকাটি শুনে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শাকিল হোসেন ভুক্তভোগীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে দুপুরের দিকে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ঘটনার দিনই শিশুর পিতা ইছানুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯, তারিখ: ১৬/০৬/২০২৫; জি আর কেস নং-১৮২/২৫; শিশু সহিংসতা দমন মামলা নং-৩৬/২০২৬)। মামলার তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় এবং দ্রুত বিচার সম্পাদনের লক্ষ্যে দূরবর্তী সাক্ষীদের ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ফলে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়।
মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।
রায়ে বলা হয়, ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা ভুক্তভোগী শিশুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পত্তি থেকে তা আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পত্তি থেকে আদায় করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে অন্যান্য সব দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন।
সানা/আপ্র/২৫/৫/২০২৬