বাগেরহাটের শরণখোলায় দখলকৃত জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তামান্না আক্তার নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। তামান্না আক্তার শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের ইলিয়াস হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৪ মে সকালে প্রতিবেশী রবিন ঢালীর পরিবারের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে ঘটনাটিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে তামান্নার দাবি, বিষয়টি সম্পূর্ণ জমিসংক্রান্ত বিরোধ, একে ধর্মীয় রূপ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, তার শ্বশুর সোবহান হাওলাদার ও তার তিন ভাই ১৯৮৯ সালে নির্মলেন্দু হালদারের কাছ থেকে ১৪ শতক এবং একই বছর নীলকান্ত ও রতিকান্তের কাছ থেকে আরও ১৪ শতক জমি ক্রয় করেন। রাজাপুর মৌজার বিআরএস ২২১৭ দাগের মোট ২৮ শতক জমি তাদের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার বসবাস করে আসছিল।
তামান্নার অভিযোগ, ১৯৯৯ সালে রবিন ঢালী ভিন্ন দাগের ৩৩ শতক জমি ক্রয় করলেও পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহায়তায় তাদের ২৮ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় তাদের বসতঘর ভাঙচুর ও সোবহান হাওলাদারকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমির বিরোধ নিয়ে একাধিক সালিস হলেও সমাধান হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সোবহান হাওলাদার আদালতে মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
৪ মে’র ঘটনার বিষয়ে তামান্না আক্তার বলেন, তাদের দাবি করা জমিতে রবিন ঢালী নতুন ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিলে বাধা দিতে যান তার শ্বশুর ও স্বজনরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রবিন ঢালীর মা, তামান্নার দেবর মিরাজ হাওলাদার এবং তাদের আত্মীয় রাসেল আহত হন।
এ ঘটনায় রবিন ঢালী শরণখোলা থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তামান্নার অভিযোগ, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং হয়রানির উদ্দেশ্যেই মামলা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দখলকৃত জমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।
সানা/আপ্র/৭/৫/২০২৬