এস এ খান শিল্টু মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলায় বিএনপির পাঁচটি ইউনিট ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩ মে) বিকেলে মেহেরপুর কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ জাভেদ মাসুদ মিল্টন। সভায় মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা এবং সংশ্লিষ্ট পৌর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জাসাস, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দল ও ছাত্রদলের জেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সভায় অংশ নেন।
সভায় ইউনিয়ন ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় আমঝুপি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনকালীন ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণেই দল পরাজয়ের মুখে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়নপ্রার্থী ও তার অনুসারীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রশ্রয় দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নতুন কমিটির অধীনে সবাই একসঙ্গে কাজ করলেও প্রত্যাশিত ফল অর্জিত হয়নি। জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও সমন্বয় ও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না আসলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সরকারি সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, দলের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বিভাজন ভুলে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সাংগঠনিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় একক প্রার্থী দেওয়ার বিকল্প নেই।
সানা/আপ্র/৪/৫/২০২৬