নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ায় ফেনীতে নিজ স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন ইসমাইল হোসেন কাওসার নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা। ঘটনার পর জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। ইসমাইল হোসেন কাওসার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
এর আগে, ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটকে রাখেন। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন— এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
এলাকাবাসী জানান, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্ত্রী জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন স্বামী কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোট দিয়ে সকাল ১০টায় ঘরে ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য নাশতা বানান।
কাওসার ঘুম থেকে উঠে বেলা ১১টার দিকে নাশতা খান। এরপর এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এ নেতা। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে কারও থেকে জানতে পারেন, তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে।
জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন কাওসার। এসময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারন করেন। আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করে আটকে রাখেন। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কাওসারের। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামের তিন সন্তান জন্ম নেয়।
নুরুল আফছার নামের একজন গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়।
এসি/আপ্র/১২/০২/২০২৬