গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পান ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই নারী। এ সময় তার বড় ছেলে আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার একটি পানের আড়তের পাশে নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং জীবিকা নির্বাহে ভিক্ষা করতেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাকে দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে আশ্রয় নেন। রাতের কোনো একপর্যায়ে সোহরাব হোসেন সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং আশ্রয় ও অর্থের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে পানের আড়তসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুর সামনে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারী বলেন, ঘটনার সময় তার শিশুরা কান্নাকাটি করলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে ঘটনার বিচার চান। তার অভিযোগ, বিচার না করে তাকে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই অর্থের পরিমাণ ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় বুধবার তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এতে তার বড় ছেলে আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পানের আড়ত এলাকায় নিয়ে আসেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ সেখানে যায়। পরে ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় সোহরাব হোসেনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলছে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় পানের আড়তদার মহসিন আলী বলেন, সোহরাব কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় পান ব্যবসা করে আসছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তিনি পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকেই ঘটনার কথা শুনেছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৫/৯/২০২৬