আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। ২০২৬ সালের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শৈবাল ও লাবণী সৈকত এলাকাকে ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মহাপরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর ও রানওয়ে সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ। পাশাপাশি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ এবং ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন কেবল স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। এর ফলে কক্সবাজারে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগও বাড়তে পারে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবেশের ভারসাম্য, পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বয় করেই মহাপরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল যেন স্থানীয় জনগণও পান। অন্যদিকে পরিবেশবাদীদের দাবি, উন্নয়নের নামে কোনোভাবেই সৈকত ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করা যাবে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মহাপরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এসি/আপ্র/১২/০৯/২০২৬