গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

কবিতা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৮ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০২ এএম ২০২৬
কবিতা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শফিকুল ইসলাম খোকনের দুটি কবিতা
নিখোঁজ জেলে, তীরের আর্তনাদ

জাল আর স্বপ্ন হাতে,
বলেছিল ‘ফিরব আমি’
সন্ধ্যার নরম প্রাতে।

কিন্তু হঠাৎ ঝড় এলো,
কালো হলো আকাশ,
ঢেউয়ের মুখে হারিয়ে গেল
একটি জীবনের নিশ্বাস।

নিখোঁজ এখন সে মানুষটা,
ফিরে আসে না আর,
অপোতে ঘাটের ধারে
শুকিয়ে যায় অশ্রুধার।

ঘরে বসে মা কাঁদে চুপে,
স্ত্রী ডাকে বারবার
‘ফিরে এসো, আরেকবার শুধু,
শুনাও তোমার খবর।’

শিশুর চোখে প্রশ্ন ভাসে
‘বাবা কোথায় গেল?’
উত্তরহীন নীরবতায়
বুকটা শুধু জ্বলে।

সাগর তুমি নিলে কেন
এতো স্বপ্ন একসাথে?
জীবিকারই খোঁজে গিয়ে
হারালো তারা রাতে।

তবু ভোরে ঢেউয়ের মাঝে
আশা খোঁজে মন,
হয়তো কোনোদিন ফিরে আসবে
হারিয়ে যাওয়া জীবন।

ঢেউয়ের ভাঁজে খুঁজে  
সাগরের ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে
খুঁজে ফেরে আপনজন,
নোনা জলে ভিজে চোখে
জেগে থাকে হারানোর মন।

দিগন্তজোড়া নীলের বুকে
নেই যে তাদের চেনা ছায়া,
তবু ঢেউয়ের প্রতিটি রেখায়
খোঁজে ফিরে পুরোনো মায়া।

কেউ ডাকে নাম ধরে কাঁদে,
কেউ চুপচাপ তাকিয়ে রয়,
সাগর যেন উত্তরহীন
কেন সে এমন করে রয়?

নৌকা ভিড়ে, মানুষ নামে,
ফিরে আসে ঘাটের প্রাণ,
শুধু কিছু শূন্য হাত
থাকে আঁধারে অবিরাম।

ঢেউয়ের শব্দে ভেসে আসে
অজানা এক ব্যথার সুর,
স্বজনহারা বুকের ভিতর
বাজে যেন বিরহপুর।

তবু আশা ছাড়ে না কেউ,
চোখে থাকে আলোর রেখা
হয়তো কোনো ভোরের বেলায়
ফিরবে সে, ভাঙবে একা।

সাগরেরই গভীর ডাকে
বয়ে চলে এই খোঁজাখুঁজি,
ঢেউয়ের মাঝে স্বজনেরা
হারানো প্রাণ খুঁজে বুঝি।

রোধ
জাকির আজাদ

পাহাড় ধ্বসে মরছে মানুষ
নেই প্রতিকার রোধ,
কি যে ব্যাপার মানুষগুলোর
হয়না ক্যানো বোধ।

নিজের প্রতি নিজে তারা
নিচ্ছে কিসের শোধ,
ভুক্তভোগী মানুষগুলো 
হায় বুঝেনা খোদ।

মরছে শিশু নারী পুরুষ
মাটি চাপার তোড়,
পাহাড়ও তাই হচ্ছে কারো
চিরদিনের গোর।

এসব বন্ধে নিতে হবে
সঠিক উদ্যোগ জোর,
পাহাড় ঘেষে বাস করার
বন্ধ কর দোর।

বকুল পুষ্পের গান
ফারুক আহম্মেদ জীবন

ঝরে যাওয়া বকুল ফুলে
যদিও, রাতের শিশির জমে...
বাসি বকুল ফুলের তবুও
সুবাস নাহি কমে॥

তুমি, আমার কাছে তেমনি যে
বকুল, পুষ্পেরই মতো...

আমি, তোমার মাঝেই খুঁজে পাই প্রেম
ভালোবাসা যতো॥

বকুল ফুলের মতো তুমি যে
অন্তহীন, সুবাসে ভরা
গহীন, আঁধার রাতে নীল আকাশের
তুমি যে শুভ্র তারা॥

মিশে থাকো তুমি যে আমার
প্রতি দমে-দমে॥

দাদুর ছাতা
কাজল নিশি

বৃষ্টি-জলে দলে দলে
ব্যাঙ ছানা গান গায়,
লাল-সবুজের এমন দেশে
মন হারিয়ে যায়।

জলের মাঝে সভা বসায়
কাইকা, পুঁটি, কই,
দৃশ্য দেখে খোকন করে 
দুরন্ত হই চই।

ঝুম বৃষ্টিতে মেলে দাদু
মাথার ওপর ছাতা,
সেই রূপটি আঁকতে খুকু
নিল তুলি খাতা।

খাতায় যখন আঁকে খুকু
বৃষ্টি-নাচের জল,
উড়ে এসে ঝাপটা মারে
কানা বকের দল।

কেএমএএ/আপ্র/২৪.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্ব সাহিত্যেও পৌঁছেছে জসীম উদ্দীনের গ্রামীণ চিরন্তন ও শাশ্বত রূপ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব সাহিত্যেও পৌঁছেছে জসীম উদ্দীনের গ্রামীণ চিরন্তন ও শাশ্বত রূপ

জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যের এমন এক বিরল ও অনন্য প্রতিভা- যিনি মাটির সোঁদাগন্ধে জড়ানো লোকজ আখ্যানকে...

আসমানী ঝড়ের উপাখ্যান
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসমানী ঝড়ের উপাখ্যান

গল্প===

একগুচ্ছ কবিতা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একগুচ্ছ কবিতা

তোমাকে পাইনি বলেআতিকুর ফরায়েজীতোমাকে পাইনি বলেপৃথিবী থেমে যায়নি,নদীগুলো যথারীতি সাগরের দিকে যায়,শালি...

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে শুনি ধর্মবাণী
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে শুনি ধর্মবাণী

কবিতা--------------

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে