বন্যা
আশা মনি
আহা! ঘর নাই দুয়ার ও নাই
সব-ই গেলো বন্যায়,
আহার ও নাই আশ্রম ও নাই
আঁখি ভিজে কান্নায়।
যেদিকেতে আঁখি মেলি
পানি আর পানি,
চারিদিকে শুনি শুধু
হাহাকার বাণী।
ফল ও ফসল যাহা ছিলো
আজকে সব-ই নদী,
হৃদয় এখন বিষাদ সিন্ধু
বইছে নিরবধি।
বানভাসি মানুষের আহাজারি
মোশতাক আহমেদ
আকাশ যেন গানের সুরে কাঁদে
শ্রাবণকন্যা বৃষ্টিতে সুর সাধে
কদম কেয়া ফুটছে বনে বনে
মাঠের ফসল যায় ভেসে প্লাবনে।
হাট ভাসলো ঘাট ভাসলো
ভাসলো শ্মশানখোলা
ঘর ভাসলো খড় ভাসলো
ভাসলো চাষির গোলা।
ঘরের চালে মানুষ করে বাস
বানের জলে ভাসলো গরু,হাঁস-
ভাঙলো নদীর ধার,
গোয়াল ভাসলো জোয়াল ভাসলো
রানী খালের চাঁড় ভাসলো
আর ভাসলো-
পদ্মা নদীর এপাড়-ওপাড়।
নদীর ধারা বাঁধন হারা
বর্ষা হয় না বৃষ্টি ছাড়া
বৃষ্টি এলো সৃষ্টি ছাড়া
জলের ধারায় নামলো জোয়ার
দেশটা জুড়ে কী হাহাকার?
ঘরহারা এক মানুষ আমি
আকাশ ছায়ায় দিবস যামি
থাকি যে গাছতলাতে,
তোমরা থাকো মহা সুখে
শান্তি আশার স্বপ্ন বুকে
আকাশ ছোঁয়া ইমারতে
ঝালর বাতির পাঁচতলাতে।
জীবন গেলো বাইতে দুখের তরী
বানের জলে আমরা কী যে করি?
আমরা থাকি অনাহারে
হাত পেতে খাই দ্বারে দ্বারে
দাও না এনে একটা বিষের বড়ি!
কী আসে যায় আমরা যদি মরি
কী এসে যায় লোকের মন্দ বলাতে।
কেএমএএ/আপ্র/২৪.০৭.২০২৬