দেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, চিকিৎসক সংকট ও সেবাব্যবস্থার নানা দুর্বলতার সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি দাবি করেছেন, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সেন্ট্রাল মসজিদ মাঠে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নানা অনিয়ম রয়েছে। রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। শর্ত থাকে, নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে হবে।”
দেশে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, গড়ে এক হাজার মানুষের জন্য দেশে প্রায় ৮০ দশমিক ৮৪ শতাংশ চিকিৎসক রয়েছেন। কোথাও কোথাও এক হাজার ২০০ বা এক হাজার ৮০০ মানুষের জন্য একজন চিকিৎসকের হিসাবও পাওয়া যায়। তবে প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।
ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল। চলতি বছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৬৯ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় এ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো যেভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সেভাবে এগোতে পারেনি। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
চিকিৎসাসেবায় দালাল চক্রের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে ৮৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার হন এবং ৬৩ শতাংশ মানুষ দালালের ভোগান্তিতে পড়েন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে মানবিকতার সংকটও রয়েছে। অনেক চিকিৎসক মানবিক হলেও কিছু মানুষের আচরণে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের বড় একটি অংশ প্রকৃত উন্নয়নে ব্যয় হয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, বরাদ্দের একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে অপচয় ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছায় না।
চিকিৎসকদের পেশাগত সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন যোগ্য চিকিৎসক হতে দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসা শিক্ষাজীবন শেষে অনেক তরুণ চিকিৎসকও যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পান না। তিনি বলেন, “আমরা অন্য পেশায় পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে ঢুকলে ন্যূনতম বেতন পাই। কিন্তু মেডিকেল থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপের সময়ও পর্যাপ্ত সম্মানী পান না।”
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি রমিজ মুত্তাকীনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুহুল কুদ্দুস এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৭/২০২৬