গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মেনু

ইসলাম======

মানবতার সেবা পরম ধর্ম

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:০০ এএম ২০২৬
মানবতার সেবা পরম ধর্ম
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মাহমুদ আহমদ    

পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস ও ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিপাটি বাড়িগুলো এখন পানিতে থইথই করছে। এতে দুর্ভোগ, দুর্দশা ও হতাশায় দিন কাটছে লাখ লাখ মানুষের।

দিনমজুর ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ পড়েছে মহাবিপাকে। অতিবৃষ্টিতে শহর ও গ্রামের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আদরের সন্তানদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তায় দিশেহারা লাখো মানুষ।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়িতে ফিরলেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি। এমন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। এসব বন্যাদুর্গত মানুষ সবার আগে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে পড়ে।

একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসবে- এটাই মানবতা, আর এটাই ধর্মের শিক্ষা। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘হজরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করেন না, যে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না’ (বুখারি ও মুসলিম)।

জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সকলের প্রতি, এমনকি অপরাপর জীবজন্তুর প্রতিও দয়া প্রদর্শন করাই ধর্মের শিক্ষা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে, কিয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়’ (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)।

মানবসেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামত দিবসে নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে আদমসন্তান- আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার শুশ্রƒষা করোনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো বিশ্বপালনকর্তা। কীভাবে আমি আপনার শুশ্রƒষা করব?’ তিনি বলবেন- ‘তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি? তুমি কি জান না- যদি তুমি তার শুশ্রƒষা করতে, তাহলে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে?’

আল্লাহতাআলা বলবেন- ‘হে আদমসন্তান, আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি হলেন বিশ্বপালনকর্তা, আপনাকে আমি কীভাবে আহার করাব?’ তিনি বলবেন- ‘তুমি কি জান না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল। কিন্তু তাকে তুমি খাদ্য দাওনি? তুমি কি জান না যে, তুমি যদি তাকে আহার করাতে, তবে আজ তা প্রাপ্ত হতে?’

আল্লাহতাআলা বলবেন- ‘হে আদমসন্তান, তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম। অথচ তুমি আমাকে পানীয় দাওনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রভু! আপনি তো রাব্বুল আলামিন, আপনাকে আমি কীভাবে পান করাব?’ তিনি বলবেন, ‘তোমার কাছে আমার অমুক বান্দা পানি চেয়েছিল। কিন্তু তাকে তুমি পান করাওনি। তাকে যদি পান করাতে, তাহলে নিশ্চয় আজ তা প্রাপ্ত হতে’ (মুসলিম)।

আমরা বিভিন্নভাবে বন্যাদুর্গতদের সেবা করতে পারি। ডাক্তার তার সেবা দিয়ে, বিত্তশালীরা তাদের সম্পদ দিয়ে এবং স্বাস্থ্যবানরা তাদের শক্তি দিয়ে বন্যাদুর্গতদের সেবা করতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন ডাক্তার সহজেই চিকিৎসার মাধ্যমে জনসেবা করতে পারেন। কারো শরীরের কোনো অঙ্গ যদি আঘাত পায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সে কি আনন্দ পায়? বরং কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক। সমাজের এক অংশ বন্যাকবলিত, ক্ষুধার্ত, ব্যাধিগ্রস্ত ও বস্ত্রহীন হলে অন্য অংশ তাদের সাহায্যার্থে প্রাণঢালা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। তবেই সুষ্ঠু ও বলিষ্ঠ জাতি গড়ে উঠবে।

প্রত্যেক ব্যক্তি যদি তার দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকে, তবেই সৃষ্টির সেবায় মহান এক সংঘ গড়ে উঠবে। অপরের প্রতি অনুকম্পা, সহানুভূতি, উদারতা ও দয়া প্রদর্শন করা আজ আমাদের মৌলিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের দেশের মানুষ অনেক আন্তরিক। বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অগণিত দৃষ্টান্ত আমাদের রয়েছে। আমরা আশা করব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের যে কোনো মুহূর্তে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে অন্যের সহায়তায় হাত বাড়াতে কেউ পিছপা হবেন না।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ

কেএমএএ/আপ্র/২৪.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

কোরআন তিলাওয়াত উন্নত করবেন যে উপায়ে
২৩ জুলাই ২০২৬

কোরআন তিলাওয়াত উন্নত করবেন যে উপায়ে

সাবলীল ও সুন্দরভাবে কোরআন তিলাওয়াতের জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। এর মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াত সু...

গোপন বিয়ে নিয়ে ইসলামের বিধান কী
২১ জুলাই ২০২৬

গোপন বিয়ে নিয়ে ইসলামের বিধান কী

ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি। তাই এর বৈধতা, সাক্ষ্য ও প্রকাশ্যতা নিয়ে শরিয়ত...

হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর
২১ জুলাই ২০২৬

হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর

আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন ক...

৫ ওয়াক্ত নামাজের বিশেষ ৫ পুরস্কার
২১ জুলাই ২০২৬

৫ ওয়াক্ত নামাজের বিশেষ ৫ পুরস্কার

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুধু একটি ফরজ ইবাদতই নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য ক্ষমা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই