দেশে কন্যাশিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক জরিপে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ২৪২ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক জরিপের ফল প্রকাশ করে মহিলা পরিষদ এ তথ্য জানায়।
১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এ জরিপে বলা হয়েছে, দুই থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ছয় থেকে নয় বছর বয়সী ৮৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ বয়সী শিশুরাই গত বছর ধর্ষণের শিকার হওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।
জরিপ অনুযায়ী, এরপর সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুরা। এ বয়সের ৭০ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৪১ শিশু এবং ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৪৫ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দুই থেকে ১৮ বছর বয়সী ৬৫ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। একই বয়সসীমার ৫৩ শিশু যৌন হয়রানি বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে।
মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। এতে ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির পাশাপাশি নারী হত্যা, আত্মহত্যা, যৌতুক নির্যাতন, বাল্যবিবাহসহ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, জরিপের তথ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, নারী সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ছয় বছরের শিশুর পাশাপাশি ষাটোর্ধ্ব নারীও সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
তিনি বলেন, “কন্যাশিশুদের এই বয়সই প্রমাণ করে, ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়। দায়ী অপরাধী এবং সেই সামাজিক মানসিকতা, যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।”
ফওজিয়া মোসলেম আরো বলেন, নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন না, তাদের জীবনও ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি শুধু নারীর সংকট নয়, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিকতার সংকট।
জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৭/৭/২০২৬