কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই তারা এমন ৬ হাজার ৩১০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি মূল্যায়ন করেছে, যেগুলো শিশু যৌন নিপীড়নের আইনি সংজ্ঞার আওতায় পড়ে।
ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে অনলাইনে শিশু নিপীড়নসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ও অবৈধ উপাদান পর্যবেক্ষণ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শনাক্ত ও মূল্যায়ন করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি এসব ছবির সংখ্যা এর আগের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের ছবির সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের সংখ্যাই গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
সংস্থাটির বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব ছবির বড় একটি অংশে মেয়ে শিশুদের দেখানো হয়েছে। তাদের বয়স সাত থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। স্থিরচিত্রের পাশাপাশি ভিডিওর ক্ষেত্রেও এ ধরনের উপাদানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানটি কেবল স্থিরচিত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অপব্যবহার নতুন করে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। সংস্থাটির নীতিবিষয়ক প্রধান হান্না সুইর্স্কি বলেছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এমন সরঞ্জাম তৈরির দায়িত্ব রয়েছে, যেগুলো এ ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করেই যখন সমস্যাটি তৈরি হচ্ছে, তখন শুরু থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রযুক্তি তৈরি না করলে সংকট আরো গভীর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কনিষ্কা নারায়ণ বলেছেন, নতুন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনো সম্ভাবনাকেই বাইরে রাখা হবে না। তবে যেকোনো আইনি উদ্যোগের মূল প্রশ্ন হবে, সেটি ব্রিটিশ জনগণকে নিরাপদ করতে পারছে কি না।
যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের উপাদান তৈরির উদ্দেশ্যে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল পরিবর্তন করা কিংবা এমন মডেল অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াও নিষিদ্ধ। শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান তৈরির জন্য কোনো মডেল তৈরি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হোক বা অন্য কোনো উপায়ে, শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান বেআইনি। এ ধরনের অপব্যবহারের উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, শিশুদের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিকৃত বা যৌন নিপীড়নের উপাদানে রূপান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে। অনলাইনে শিশুদের ছবি থেকে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে কাজ করা ‘রিপোর্ট রিমুভ’ চলতি বছর এমন ৪২০টি অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে শিশুদের ছবি কারসাজি করে যৌনভাবে স্পষ্ট করে তোলা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে। গত বছর এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৩৯৭।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে জাতীয় অপরাধ সংস্থা ও ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন মা-বাবা ও অভিভাবকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব ব্যক্তিগত রাখা এবং শিশুদের ছবি কেবল ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা সীমিত পরিচিতজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/৬/১০/২০২৬