বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের উত্তেজনায় যখন সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা মুখিয়ে, ঠিক সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে জাতীয় ফুটবল দিবস। তবে এই ‘ফুটবল’ বলতে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল নয়, বরং আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল পরিচিত ‘সকার’ নামে।
নাম একই হলেও দুই খেলার নিয়ম, ইতিহাস, মাঠ, বল ও খেলার ধরনে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। তবে একটি জায়গায় দুটির মিল স্পষ্ট—উভয় খেলাই কোটি মানুষের আবেগ, বিনোদন এবং জাতীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্বকাপ ফুটবল যেমন বিশ্বের নানা দেশের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়, তেমনি আমেরিকান ফুটবল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর দেশটিতে পালিত হয় জাতীয় ফুটবল দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে টাচ ফুটবল খেলা, প্রিয় দলের জার্সি পরে ম্যাচ উপভোগ, ফুটবলভিত্তিক কুইজ, বিশেষ খাবারের আয়োজন এবং স্থানীয় যুব ফুটবল কর্মসূচিতে সহায়তা করার মতো নানা আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শুধু পেশাদার খেলাই নয়, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার বার্তাও দেওয়া হয়।
আমেরিকান ফুটবলের ইতিহাসের শিকড় উনিশ শতকের রাগবি ও অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলে। ১৮৮০-এর দশকে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষক ওয়াল্টার ক্যাম্প খেলাটির নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে আধুনিক আমেরিকান ফুটবলের ভিত্তি গড়ে তোলেন। লাইন অব স্ক্রিমেজ, ডাউন পদ্ধতি ও ফরোয়ার্ড পাসের মতো নিয়ম প্রবর্তনের কারণে তাকে ‘আমেরিকান ফুটবলের জনক’ বলা হয়।
১৮৯২ সালে পেশাদার আমেরিকান ফুটবলের সূচনা হয়। পরে ১৯২০ সালে গঠিত হয় আমেরিকান প্রফেশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, যা পরবর্তীতে ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) নামে পরিচিতি পায়। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত আমেরিকান ফুটবল লিগের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর শুরু হয় সুপার বোল, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটি।
বিশ্বকাপ ফুটবল ও আমেরিকান ফুটবলের দর্শন আলাদা হলেও আবেগে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বিশ্বকাপে যেমন কোটি মানুষ প্রিয় দলের সাফল্যের অপেক্ষায় থাকেন, তেমনি সুপার বোলও যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়।
খেলার ধরন, নিয়ম কিংবা নাম ভিন্ন হলেও খেলাধুলার মূল শক্তি একই—মানুষকে একত্র করা, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নতুন স্বপ্ন দেখানো।
সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার
এসি/আপ্র/১৯/০৭/২০২৬