বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত সাফল্যযাত্রাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, এমন সময় বারবার আসে না। তাই সমর্থকদের উচিত এই মুহূর্তকে উপভোগ করা এবং মূল্যায়ন করা।
গত বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা এবারও পৌঁছে গেছে সেমি-ফাইনালে। নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে দলটি। আর বিশ্বকাপ জিততে এখন তাদের প্রয়োজন আর মাত্র দুটি জয়।
এবারের আসরে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথ অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। দ্বিতীয় রাউন্ডে কেইপ ভার্ড, শেষ ষোলোতে মিশর এবং কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দল শীর্ষ দশে থাকা কোনো দলের মুখোমুখি না হয়েই সেমি-ফাইনালে উঠলেও প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে।
ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, দলটির সাফল্যকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “এটা ভালো যে আর্জেন্টিনার মানুষও আমাদের মতোই এই সময়টা উপভোগ করছে। আমরাও ঠিক এভাবেই প্রতিটি মুহূর্ত বাঁচি।”
টানা দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জয়ের পরও দলের ক্ষুধা ও লড়াইয়ের মানসিকতা অটুট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসির ভাষায়, “এই দলে এমন ফুটবলার আছে, যারা অসাধারণ সব কাজ করতে অভ্যস্ত। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, এত কিছু জয়ের পরও আবার একই ক্ষুধা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া, শীর্ষ চারে ওঠা এবং আরেকটি সেমি-ফাইনাল খেলা মোটেও সহজ বা স্বাভাবিক নয়। তাই এই সময়টাকে যতটা সম্ভব উপভোগ করতে হবে।”
আর্জেন্টিনার দীর্ঘ অপেক্ষার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের পর পরবর্তী শিরোপার জন্য দেশটিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ বছর। একইভাবে ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতেও লেগেছে ২৮ বছর।
মেসি বলেন, “আমরা জানি না, আবার কখনও এমন সময় আসবে কি না। এলেও কবে আসবে, সেটাও জানি না। গতবারের আগে আমরা অনেক বছর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিলাম না। তাই যা কিছু অর্জন করেছি, সেগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা এবং মূল্যায়ন করা উচিত। এখন আমরা বিশ্রাম নেব, শক্তি ফিরে পাব এবং সেমি-ফাইনালে আবার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। জাতীয় দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই হবে মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ।
সানা/আপ্র/১৪/৭/২০২৬