শেষ ৫ বলে প্রয়োজন ৩ রান। একদমই সহজ সমীকরণ। কিন্তু বেন স্যান্ডারসনের প্রথম দুই ডেলিভারি ব্যাটেই লাগাতে পারলেন না লিয়াম ডসন। জমে গেল ম্যাচ, উত্তেজনা দুই দলের ডাগআউটেও।
তৃতীয় ডেলিভারির আগে জস বাটলার তো অন্য দিকে তাকিয়ে রইলেন, দেখার সহ্য শক্তি নেই! তবে সবকিছুর সমাপ্তি সেই বলেই। লেংথ ডেলিভারিতে স্লগ করলেন ডসন। বল অনেকক্ষণ হাওয়ায় ভেসে ফিল্ডারকে আশায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রকমে পার হয়ে গেল সীমানা।
ক্রিজে লাফিয়ে উঠলেন ডসন, ডাগআউটে বাটলার। বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠলেন তাদের সতীর্থরা। স্যাম বিলিংসের চোখেমুখে তখন আঁধার।
অধিনায়ক হিসেবে টানা চারটি ট্রফি জেতা হলো না! তার আক্ষেপের পাশে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের প্রাপ্তির ওজন অবশ্য বেশি। প্রথম শিরোপা বলে কথা! ট্রেন্ট রকেটসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দা হান্ড্রেডের ছেলেদের আসরের নতুন চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেষ্টার সুপার জায়ান্টসর।
আগে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম ছিল ম্যানচেস্টার অরিজিনালস। ২০২২ ও ২০২৩ আসরের ফাইনালে খেলেছিল তারা। এবার মালিকানার পরিবর্তনে আইপিএলের লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের মালিকানায় আসার পর দলের নাম হয়ে যায় ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। কর্ণধার বদলের পর বদলে গেল তাদের ভাগ্যও।
ইংল্যান্ডের ১০০ বলের এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ছয় আসরে এটি যেমন ছেলে বা মেয়েদের মিলিয়েই ম্যানচেস্টারের প্রথম শিরোপা, তেমনি সুপার জায়ান্টস গ্রুপেরও প্রথম ট্রফি এটি। আইপিএলে লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের সাত মৌসুম, এসএ টোয়েন্টিতে ডারবান’স সুপার জায়ান্টসের চার মৌসুমের হতাশার পর সাফল্য ধরা দিল হান্ড্রেডে। ফাইনালে শেষের ছক্কা ডসনের ব্যাট থেকে এলেও জয়ের মূল নায়ক টিম সাইফার্ট।
সাত ছক্কায় ৩৮ বলে ৭২ রান করে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়ে ম্যান অব দা ফাইনাল এই ওপেনার। ১৬৮.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৪ রান করে নিউ জিল্যান্ডের এই ক্রিকেটারই হয়েছে ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট।
শিরোপাজয়ী ম্যানচেস্টার দুই সপ্তাহ আগেও ছিল বিদায়ের একদম দুয়ারে। অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার পর নাটকীয়ভাবে বদলে যায় দলের চিত্রও। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বাটলারের নেতৃত্বে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে চ্য্যাম্পিয়ন হয়ে গেল তারা।
এই পাঁচ ম্যাচের একটিতে শূন্য রানে ফিরলেও বাকি চারটিতে সাইফার্টের রান ৩৬ বলে ৬২*, ৩৪ বলে ৫৫, ৪০ বলে ৮০* ও ফাইনালের এই ৩৮ বলে ৭২।
লর্ডসে রোববার ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ট্রেন্ট রকেটস ১০০ বলে তোলে ১৫৮ রান। তাদের চার ব্যাটার ২০ ছুঁলেও ৪০ পর্যন্ত যেতে পারেনি কেউ।
ওপেনিংয়ে ২৪ বলে ৩১ রান করেন বেন ডাকেট, তিনে নেমে আনেউরিন ডোনাল্ড ১৯ বলে ৩৮। অধিনায়ক স্যাম বিলিংস ৪ রানে ফেরেন রান আউটে, প্রথম বলেই বোল্ড টিম ডেভিড। শেষের দিকে ১৬ বলে ৩২ রান করেন লুইস গ্রেগরি, ১৬ বলে ২০ রানে অপরাজিত মিচেল স্যান্টনার। ম্যানচেস্টারের আফগান স্পিনার নুর আহমাদ ৩৩ রানে নেন ৩ উইকেট।
রান তাড়ায় দুর্দান্ত সূচনায় ঝড়ের বেগে লক্ষ্যের দিকে ছুটে যায় ম্যানচেস্টার। সাইফার্ট ও পল ওয়াল্টার উদ্বোধনী জুটিতে ৬৬ রান তোলেন ৩১ বলে। ওয়াল্টার ১৪ বলে ২২ রান করে আউট হওয়ার পর তিনে নেমে তিন ছক্কায় ১৪ বলে ২৩ করেন বাটলার।
সাইফার্ট যখন ফেরেন মোহাম্মাদ আমিরের বলে, তখনও সহজ জয়ের পথে ম্যানচেস্টার। জয়ের জন্য ২২ বলে দরকার ছিল ২৩ রান। কিন্তু হাইনরিখ ক্লসেন ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে দ্রুত বিদায় করেন আমির।
ম্যাচে জমে ওঠে নাটকীয়তা। তবে লুয়াস ডু প্লয় (১৮ বলে অপরাজিত ২৭) একপ্রান্তে অটল থেকে এগিয়ে নেন দলকে। ডসনের সেই ছক্কায় ম্যাচের ইতি। দা হান্ড্রেযের আগের তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল ওভাল ইনভিন্সিবলস। প্রতিটিতেই অধিনায়ক ছিলেন বিলিংস। এবার তিনি যোগ দেন গত আসরের রানার্স আপ ট্রেন্ট রকেটসে।
কিন্তু ট্রেন্ট এবারও দ্বিতীয় সেরাই। ছেলেদের আসরে ফাইনাল হারলেও মেয়েদের আসরে ঠিকই জিতেছে ট্রেন্ট রকেটস। লর্ডসে ফাইনালে তারা ৮ উইকেটে হারায় সানরাইজার্স লিডসকে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা লিডস গুটিয়ে যায় স্রেফ ৯১ রানেই।
দুটি করে উইকেট নেন কিম গার্থ, সামান্থা বেটস, চার্লি ফিলিপস ও জর্জিয়া অ্যাডামস। রকেটস ম্যাচ জিতে নেয় ৪৬ বল বাকি রেখে। ২৩ বলে ৪১ রান করেন ওপেনার সোফিয়া ডাঙ্কলি, ২১ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন আরেক ওপেনার বেথ মুনি।
ডিসি/আপ্র/১৭/০৮/২০২৬