গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

চার্জে প্রতিদিন ব্যয় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট

ব্যাটারিচালিত রিকশায় খাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৫২ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৮ এএম ২০২৬
ব্যাটারিচালিত রিকশায় খাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপক বিস্তার এখন জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। অবৈধ চার্জিং, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার মিলিয়ে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার বড় অংশই অপচয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)–এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দেশে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ শুধু ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জে ব্যয় হচ্ছে। এটি মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। এর ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। প্রতিটি রিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্ট ব্যাটারি থাকে, যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে এবং প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে।

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য সরকারি অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন রয়েছে ৩ হাজার ৩০০টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির অধীনে বৈধ স্টেশন ২ হাজার ২০১টি, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। তবে এর বাইরে রাজধানীতে অন্তত ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে, যেগুলোতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্রের বরাতে জানা যায়, মিরপুর, ওয়ারী, গুলশান, উত্তরা, মতিঝিলসহ বিভিন্ন বিভাগে হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট গড়ে উঠেছে। এসব গ্যারেজে দিনে ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা চার্জ করা হয়। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে চার্জিং চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের পাশে অবৈধভাবে চার্জিং স্টেশন গড়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে হুক লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে রাতদিন রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। গ্যারেজ মালিক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ মিটার নিলে খরচ বহন করা সম্ভব হয় না বলেই তারা অবৈধভাবে চার্জ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক ও চালকদের অনেকে জানান, জায়গার অভাবে অন্যের গ্যারেজে প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়, যা তাদের বাড়তি ব্যয় বাড়াচ্ছে।

বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসাবাড়ির সংযোগ থেকেও ব্যাপকভাবে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে, ফলে ডোমেস্টিক লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কম দরে বিল পরিশোধ করায় বাণিজ্যিক ব্যবস্থার বাইরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, যা সিস্টেম লস হিসেবে ধরা পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, জাতীয় গ্রিডের ওপর এই অতিরিক্ত চাপ ভবিষ্যতে লোডশেডিং বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয়ের কারণে কৃষি সেচ, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাধান হিসেবে তারা ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নীতিমালার আওতায় আনা, অবৈধ চার্জিং বন্ধ করা, নতুন করে অনিয়ন্ত্রিত রিকশা প্রবেশ বন্ধ করা এবং সৌরশক্তিভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

শিশুদের তীব্র অপুষ্টি বেড়েছে, আট বছরে ক্ষুধা কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ

পীরগঞ্জে পৌর ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, দায় কার?
১৪ অক্টোবর ২০২৬

পীরগঞ্জে পৌর ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, দায় কার?

তদন্ত কমিটি গঠন; মামলায় আসামি ৯

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সরছে সচিবালয়, হবে নতুন সড়ক
১১ অক্টোবর ২০২৬

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সরছে সচিবালয়, হবে নতুন সড়ক

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে