নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আগামী শনিবার (১ আগস্ট) দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের জানানো হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “আলোচ্যসূচির বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে নিশ্চিত করে বলতে পারব।”
আগে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা না থাকার কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা চলার মধ্যেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, শনিবারের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। একজন সদস্য বলেন, “শনিবারের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে আলোচনা হবে।”
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে আলোচনায় সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একজন সচিব ও কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
শনিবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান আরো স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৯/৭/২০২৬