গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সুযোগ সরকারের ছিল। একই সঙ্গে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা থেকে গণমাধ্যম মুখ ফিরিয়ে রাখায় জনগণের কাছে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতাও কমছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করতে চায়। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা জামায়াতের সংসদ সদস্যরা নেবেন না। সংসদ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁর দল এর বিরোধিতা করবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁরা সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি নেননি। ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ সফর বা রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধাও নেননি। শুধু মাসিক সরকারি সম্মানী ভাতা নেন এবং তা কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন বলে জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় বাসভবন তাঁর নামে থাকলেও সেখানে তিনি থাকেন না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেখানে শুধু বিভিন্ন বৈঠক করা হয়। মেয়াদ শেষ হলে সেটিও সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেবিল বা ফাইল ছুড়ে মারার মতো বিরোধী দল হতে চান না তাঁরা। কোনো অসভ্য আচরণও করতে চান না। তবে গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত রাখবেন।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও এ টি এম মাছুম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন এবং ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৩/৯/২০২৬