গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মেনু

ডেঙ্গু রুখতে কতটা প্রস্তুত সরকার ও জাতীয় কমিটি

বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২২ পিএম, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৬ এএম ২০২৬
ডেঙ্গু রুখতে কতটা প্রস্তুত সরকার ও জাতীয় কমিটি
ছবি

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন মাত্রা পেয়েছে -ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ডেঙ্গুর পুনরুত্থান জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত জনের। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন ৩১ সদস্যের এই কমিটিকে নীতি প্রণয়ন, সমন্বয়, তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে-এই কাঠামোগত উদ্যোগ কি বাস্তব মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রুখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে?

রোগবিস্তার বাড়ছে, বাড়ছে উদ্বেগ
চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি জমে থাকা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণাধীন ভবন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এডিস মশার বিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবেশী দেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনকভাবে মিলছে।

জাতীয় কমিটি: কাঠামো শক্ত, বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ
নতুনভাবে গঠিত জাতীয় কমিটির সভাপতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সহসভাপতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে-

* জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও হালনাগাদ
* মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি
* গবেষণা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ
* বছরে অন্তত চারটি সভা আয়োজন

তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন উচ্চপর্যায়ের কমিটি থাকলেও মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা
২০২৫ সালে প্রথম এই ধরনের জাতীয় কমিটি গঠিত হলেও কার্যকর মাঠপর্যায়ের অভিযান বা দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগুজে পরিকল্পনা এবং সভা-সেমিনার নির্ভরতা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারের পুনর্গঠিত কমিটিতে কার্যপরিধি স্পষ্ট করা হলেও মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে উদ্যোগটি আবারো অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা: সমন্বয়ের ঘাটতি বড় বাধা
ঢাকা ও অন্যান্য নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বহু সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু পৃথক দায়িত্বের কারণে অনেক সময় কার্যকর সমন্বয় তৈরি হয় না। ফলে কোথাও ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, আবার কোথাও মশার প্রজননস্থল রয়ে যাচ্ছে অক্ষত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উৎস ধ্বংস। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে অভিযান মৌসুমি ও প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: সমন্বিত ও বছরব্যাপী অভিযান প্রয়োজন
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান।

তাদের মতে করণীয়গুলো হলো-

* সারা দেশে একযোগে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস অভিযান
* বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা কীটনাশক ব্যবহার
* সারা বছরব্যাপী নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম
* স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ
* দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো “সমন্বিত জনসম্পৃক্ততা”, যা এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

সরকারের চ্যালেঞ্জ: সিদ্ধান্ত নয়, বাস্তবায়ন
সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নীতিগত সিদ্ধান্তকে মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা। জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন যদি দ্রুত ও কঠোরভাবে না হয়, তাহলে সংক্রমণ আরো বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে-
* স্থানীয় পর্যায়ে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা
* নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা
* জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
* তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা

এসব বিষয় বাস্তবায়ন না হলে নতুন কমিটিও আগের মতো কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

প্রস্তুতির পরীক্ষা সামনে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন জাতীয় কমিটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উদ্যোগ হলেও এর কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নের মুখে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সময় কাগজের পরিকল্পনা থেকে বাস্তব মাঠপর্যায়ের কঠোর ও সমন্বিত অভিযানে যাওয়ার। না হলে ডেঙ্গুর এই মৌসুম আবারো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/২২/৬/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ঢাকা, নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক
২২ জুন ২০২৬

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ঢাকা, নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক

রাজধানী ঢাকায় সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হালকা ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে নগরবা...

হামের উপসর্গে তিন বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু
২২ জুন ২০২৬

হামের উপসর্গে তিন বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের তিনটি বিভাগে আরো তিন...

নাশকতার আশঙ্কায় ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন
২২ জুন ২০২৬

নাশকতার আশঙ্কায় ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন

দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মহানগর এলাকায় সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে...

তারেক রহমানের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্ন ভোজ
২২ জুন ২০২৬

তারেক রহমানের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্ন ভোজ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই