সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।
গত বছরের ২১ আগস্ট তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভেজালবিরোধী অভিযানের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পান। তিনি তিন শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানা যায়। এর আগে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ বিষয়ে বলেন, সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তাকে পরবর্তীতে পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং যথাসময়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও প্রত্যাহার নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ, এতে ব্যতিক্রম কিছু নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে দানের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়। এই ঘটনার তিন দিনের মধ্যেই জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়।
গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের পর মাজার সংশ্লিষ্ট কিছু ভক্ত ও খাদেমের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
প্রত্যাহারের পর স্থানীয় পর্যায়ে কেউ কেউ মনে করছেন, মাজার ব্যবস্থাপনা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কই এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো পক্ষ স্পষ্ট কারণ জানায়নি।
দরগাহের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন বলেন, দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ সঠিকভাবে হয়নি বলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বচ্ছতা আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসান উদ্দিন বলেন, মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের কারণেই জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অভিযানমূলক কার্যক্রমে আলোচনায় ছিলেন। বিশেষ করে ভেজালবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি প্রশংসা ও সমালোচনা দুই-ই পেয়েছেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২১/৬/২০২৬