শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এবং সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত’র ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী গত শনিবার (৩০ মে) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডা. মো. আহসানুল কবির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হকের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরআন খতম, বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ৩০ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন দেশের এই কৃতী সন্তান। মৃত্যুর পর সেদিনই রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। ১৯৫৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নাখালপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁদের আদি নিবাস খুলনায়।
১৯৭১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মো. ইমামুল কবীর শান্ত। স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম ইনস্টিটিউট অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম স্কুল অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, শিশু ও বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র শান্তনিবাস, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড এবং দৈনিক আজকের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
একজন সফল উদ্যোক্তা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাই একটি জাতিকে আত্মনির্ভরশীল ও মানবিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। তাঁর স্বপ্ন ছিল দক্ষ, সৃজনশীল ও কর্মমুখী সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষা শুধু ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাস্তব জীবনের সক্ষমতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে তিনি জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
সানা/আপ্র/১/৬/২০২৬