পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতু পদ্মা ও যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে অতীতের মতো বড় ধরনের যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন যাত্রীরা। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দুটিতে প্রায় ৯৭ হাজার ২৫৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৪৮ লাখ ৫১ হাজার ১০০ টাকা।
পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন চলাচল করেছে। এ প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। সেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
এদিকে যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা। অপরদিকে ঢাকামুখী ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৫০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং ৪৫ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি তিন সেকেন্ডে ১০টি যানবাহন টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে বিশেষ বাস থামানোর স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি বাস অবস্থান করতে পারায় টোল প্লাজার প্রবেশমুখে দীর্ঘ সারি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে না।
অন্যদিকে যমুনা সেতুতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দুই প্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক দুটি করে বুথ রয়েছে।
সকাল থেকেই ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং যমুনা সেতু মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি। যাত্রীরা বলছেন, টোল আদায়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার কারণে এবার ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলগামী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নভাবেই সম্পন্ন হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ
সানা/আপ্র/২৬/৫/২০২৬