পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু করা একটি খামার এখন দাঁড়িয়েছে দেড় শতাধিক গরুর সমন্বিত খামারে। চার বন্ধুর যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘জনতা ডেইরী এন্ড এগ্রো ফার্ম’ আসন্ন কোরবানিতে প্রায় চারশো গরু বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
২০১৯ সালে করোনা মহামারিতে চাকরি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন শাহিদুল ইসলাম শাকিল। পরে তিন বন্ধু ফারুক, রাজু ও হালিমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গরুর খামার শুরু করেন। মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন প্রায় দেড় কোটি টাকার খামারে পরিণত হয়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চৌবাড়িয়া এলাকার হারোপাড়া মহল্লায় ২০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে মূল খামার। পরে আরো ২০ শতক জমিতে তিনটি শেড নির্মাণ করে খামার সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে দেশি ও শাহিওয়াল জাতের শতাধিক ষাঁড় ও গাভি পালন করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা জানান, সারাবছর গাভি ও বাছুর বিক্রির পাশাপাশি কোরবানিকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরে ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়। এ খামারে বর্তমানে প্রায় ১৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
খামারের অন্যতম উদ্যোক্তা শাকিল জানান, মাসিক খরচ এখন গরুর খাবার ও কর্মীদের বেতন মিলিয়ে ছয় লাখ টাকার বেশি। তবে নিয়মিত বিক্রি ও কোরবানির মৌসুমে বড় আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, প্রতিমাসে গড়ে শতাধিক গাভি ও বাছুর বিক্রি হয় এবং ব্যয় বাদে বছরে উল্লেখযোগ্য লাভ আসে। আসন্ন কোরবানিতে তিন থেকে আট মণ ওজনের চারশোর বেশি ষাঁড় বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে। খামারের আরেক স্বত্বাধিকারী রাজু জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ভিডিও প্রকাশ করেন, ফলে ক্রেতারা অনলাইনে দেখে সরাসরি খামারে আসেন। দূর থেকে আসা ক্রেতাদের জন্য থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়। খামার থেকে গরু কিনতে আসা ক্রেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশি জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের গরুর মানও ভালো।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চার মাস মেয়াদি গরু মোটাতাজাকরণ অনুসরণ করায় এই খামার দ্রুত সফলতা পেয়েছে। সঠিক পদ্ধতি মেনে খামার পরিচালনায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর সহায়তা দিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।
সানা/আপ্র/১৬/৫/২০২৬