গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

টানা ২২ মাস বেতন বন্ধ

কর্মবিরতিতে সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কলেজে অচলাবস্থা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ০১:৩২ এএম ২০২৬
কর্মবিরতিতে সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কলেজে অচলাবস্থা
ছবি

টানা ২২ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে গেছেন সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৩৭ জন শিক্ষক ও চিকিৎসক -ছবি সংগৃহীত

টানা ২২ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে গেছেন সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৩৭ জন শিক্ষক ও চিকিৎসক। এতে দেশের একমাত্র সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজটিতে পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত ১০ মে থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতির কারণে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত হাসপাতালটিতে রোগী সংখ্যা কমে গেছে। একই সঙ্গে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী।

আন্দোলনরত শিক্ষক ও চিকিৎসকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে তারা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন ছাড়াই পাঠদান, চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও আর্থিক সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন জানান, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক দুই শাখা মিলিয়ে মোট ৩৭ জন শিক্ষক ও চিকিৎসক প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগে কাজ করছেন। কেউ কেউ ছয় থেকে বারো বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দাবি, নবম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেলেও দীর্ঘদিন ধরে পদ রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় বেতন না পেয়েও তারা এতদিন ক্লাস ও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে গেছেন, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পভিত্তিক ৩৭ জনের বাইরে আরো ২০ জন এমবিবিএস চিকিৎসক ও ১০ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন, যারা ক্যাডারভুক্ত হওয়ায় তাদের বেতন-ভাতা স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির আয়ুর্বেদিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান মো. নাজমুল হুদা বলেন, কর্মবিরতির কারণে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পভিত্তিক পদগুলো এখনো রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না হওয়ায় সংকট আরো জটিল হয়েছে।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজটের আশঙ্কা করছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, নির্ধারিত পরীক্ষার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আবাসিক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ঋণ করে জীবন চালাচ্ছেন এবং পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ কাম অধীক্ষক মো. রাশিদুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষক ও চিকিৎসকরা বেতন ছাড়াই এতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৬/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

অতিরিক্ত করলা খেলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি
০২ জুলাই ২০২৬

অতিরিক্ত করলা খেলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি

করলার স্বাদ সাধারণত বিশ্বের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায় এবং এর তীব্র তেতো স্বাদ রয়েছে। তবে এর অন...

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ, কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা
০১ জুলাই ২০২৬

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ, কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা

প্রফেসর ডা. মো. জিল্লুর রহমানমাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, খিঁচুনি বা আচরণগত পরিবর্তনের মতো কিছু উ...

হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৭১৮
৩০ জুন ২০২৬

হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৭১৮

হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) দেশে আরো দুই শিশু...

স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার, বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ
৩০ জুন ২০২৬

স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার, বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশের মানুষের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্ষণের মামলা কিছুটা বেড়েছে বলে যে পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে, তার অন্যতম কারণ হলো এখন ভুক্তভোগীরা সহজেই মামলা করতে পারছেন। আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে মামলা করতে পারতেন না বা করতে চাইতেন না। আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে