রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বোগদাদী মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে জিয়ারতকারীদের অভিযোগ, পুলিশের বক্তব্য এবং জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবি-সব মিলিয়ে দেখা দিয়েছে পরস্পরবিরোধী অবস্থান। এ ঘটনায় মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে মাজারে সাপ্তাহিক ওরশ চলাকালে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত জিয়ারতকারীরা। তাদের দাবি, হামলাকারীরা মাজারের ভেতরে ঢুকে লোকজনকে মারধর করে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কয়েকজন জিয়ারতকারী অভিযোগ করেন, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘জামায়াত-শিবিরের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
মাজারে উপস্থিত আব্দুস সবুর নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ওরশে অংশ নিতে আসেন। এ সময় হঠাৎ একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। আহত এক ব্যক্তি বলেন, হামলার সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বের হওয়ার সময় তাকে মাথায় আঘাত করা হয়।
ঘটনার সময় মাজারের বাইরে পুলিশের গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে প্রবেশ করেনি বলে দাবি করেন উপস্থিত কয়েকজন। তাদের ভাষ্য, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হয়েছে।
তবে হামলার বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে দেখা গেছে ভিন্নতা। মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, মাজার এলাকায় পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে কিছু লোক জটিলতা সৃষ্টি করে, পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।
অন্যদিকে দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল শুরুতে পুলিশি অভিযানের কথা অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্ভবত জামায়াত-শিবিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে এবং পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করেনি। তবে পুলিশের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় অতিরিক্ত উপকমিশনার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, মাজারের পাশে জুমার নামাজের স্থানে কিছু নারী-পুরুষ মাদুর পেতে গাঁজা সেবন করছিলেন। পরে জিয়ারতকারীরাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পুলিশের কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন মিরপুর এলাকার জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেন, পুলিশ তাকে জানিয়েছিল সেখানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এবং বৃহস্পতিবার রাতে বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হবে। তবে ওই ঘটনায় তার দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যারিস্টার আরমান আরো বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণেই স্থানীয় মানুষ সেখানে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে তিনি পাঠানো ভিডিওতে নিজের দলের পরিচিত কাউকে দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাজার ও খানকাহে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর তথ্যমতে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সানা/আপ্র/১৬/৫/২০২৬