হাওরাঞ্চলের নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে এখনো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি পাঁচটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ওই তিন জেলার হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়। তবে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান।
তিনি বলেন, “সার্বিকভাবে পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় ভালো। তবে নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।”
কেন্দ্রের বুলেটিন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে সেতু পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন ওই অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত এবং পরবর্তীতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, আগামী কয়েক দিনে সুরমা-কুশিয়ারা, ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী, ধনু-বাউলাই, মগরা, মনু, খোয়াই, জুড়ি ও সুতাং নদীর পানি ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে বা স্থিতিশীল থাকবে, ফলে হাওরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে, পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৫/২০২৬